নরসিংদীর পলাশে বিএনপি নেতা ও মেয়রপ্রত্যাশী ফজলুল কবির জুয়েলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর এ হামলা চালানো হয়।
গত রোববার বিকেলে পলাশে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হন জুয়েলসহ একাধিক নেতা-কর্মী। ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েলের ভাই হুমায়ুন কবির।
সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির বলেন, তাঁর ভাই দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ঘোড়াশাল পৌরসভায় মেয়র পদপ্রার্থী। তিনি এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে থেকে এবং খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এ জন্য প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতা বাহাউদ্দিন ভূঁইয়া মিল্টন ও আলম মোল্লার নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, রোববার বিকেলে বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির প্রচারণা এবং ঈদ-পরবর্তী গণসংযোগে অংশ নিতে পলাশ বাসস্ট্যান্ড মোড়ে গেলে ফজলুল কবির জুয়েলের ওপর হামলা হয়। আলম মোল্লার নেতৃত্বে পাপন বাদশা, আরিফ, আমান উল্লাহসহ শতাধিক সন্ত্রাসী ককটেল বিস্ফোরণ ও এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে জুয়েল গুরুতর আহত হন এবং তাঁর ভাতিজা তৈয়ব আলী পেটে গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া পথচারী সোহেল, মিঠু এবং ছাত্রলীগের কর্মী ইসমাইলও গুলিবিদ্ধ হন।
সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির জানান, হামলার সময় জুয়েল আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি মসজিদে আশ্রয় নেন। পরে সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে এবং মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করে নগদ টাকা লুট করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় জুয়েলের শাশুড়ি মমতাজ বেগম বাদী হয়ে আলম মোল্লাকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাহাউদ্দিন ভূঁইয়া মিল্টন ও আলম মোল্লা পাল্টা অভিযোগ এনে তাঁদের ওপরও হামলার কথা জানান।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ঘটনার পর দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।