বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের অপসারণ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেষপুর বাজারে স্থানীয়দের ব্যানারে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
গত সোমবার সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওই হামলার অভিযোগ ওঠে।
জানা গেছে, বুধবার স্থানীয় কয়েক শ বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিলে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাঁর অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান হুমায়ুন ইতিপূর্বেও জেলেদের চাল আত্মসাৎ, বিভিন্ন ভাতা থেকে টাকা আদায়সহ নানারকম দুর্নীতি করে পার পেয়ে গেছেন। এবারও তিনি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল আত্মসাতের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় লোকজন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেটা জানতে পেরে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চালের বস্তা গণনা করে ১৩০০ কেজি চাল কম পায়। বক্তারা বলেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হুমায়ুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯ মার্চ সরকারি উদ্যোগে দুস্থ মহিলাদের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল কম থাকার অভিযোগ এনে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীকালে বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে শারীরিকভাবেও হেনস্তা করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খান শামিম পারভেজ বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়নে দুস্থ মহিলাদের সহায়তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ২৬৬টি কার্ড রয়েছে। প্রতি মাসে তারা জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল পায়। চলতি মাস এবং আগের ২ মাস বকেয়াসহ ৩ মাসের মোট ২৩ হাজার ৯৪০ কেজি চাল কলসকাঠি খাদ্যগুদাম থেকে আনার কথা। কিন্তু গুদাম থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল কম আনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।