হোম > সারা দেশ > ঢাকা

আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু: বেইলি রোডের ২২ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযোগপত্র

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনে আগুনে ৪৬ জনের প্রাণহানির পর ওই রোডের ১৩টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনের আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে ভবনটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ এবং তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ষষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খান, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মৃত্যুবরণ করায় ভবনটির মালিক এ কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এ ছাড়া এই মামলায় মো. আনোয়ার হোসেন সুমন এবং শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ জন্য তাঁদের অব্যাহতি সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। ১১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আর জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে।

ঘটনার পরদিন ১ মার্চ রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলায় অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ, ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং এর ফলে প্রাণহানি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে:

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভবনের নিচতলার ‘চুমুক’ কফিশপের বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ভবনের গাফিলতি: ৫ তলা অনুমোদিত ভবনটিতে অবৈধভাবে ৮ তলা পর্যন্ত কার্যক্রম চলছিল, কোনো উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না।

রেস্টুরেন্টের অব্যবস্থাপনা: ভবনের ১০টি রেস্টুরেন্টেরই বৈধ কাগজপত্র ছিল না। ভবনের সিঁড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে পথ আটকে রাখা হয়েছিল।

মূল ফটকে তালা লাগানো হয়:

আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকানের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে খাবারের বিল পরিশোধ না করে কেউ বেরিয়ে যেতে না পারেন। আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন তলায় থাকা কিছু মানুষ ছুটে যান ছাদের দিকে। কিন্তু ভবনের আটতলা ও ছাদ মিলে অবৈধভাবে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’ থাকায় সেখানে গিয়েও আশ্রয় নিতে পারেননি তাঁরা।

আগুন লাগার পর সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসার প্রাণপণ চেষ্টা করেন অনেকে। কিন্তু সিঁড়িতে খাবারের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা জিনিসপত্র রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা ছিল। এসব ‘অব্যবস্থাপনার জালে’ আটকা পড়ে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের আগুনে সেদিন ৪৬ জন মারা গিয়েছিলেন। আগুনে পুড়ে ৩ জন ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ৪৩ জন মারা যান।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই খাবারের দোকান:

ভবনে থাকা ১০টি খাবারের দোকানের কোনোটির বৈধ কাগজপত্র ছিল না। দোকানগুলোর ভেতরে সাজসজ্জায় বোর্ড ব্যবহার করা হয়েছিল; এতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।

ছাদেও ছিল অবৈধ স্থাপনা:

ভবনের ছাদ খোলা না রেখে অবৈধভাবে ৮ তলা ও ছাদ মিলে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’ করা হয়েছিল। ছাদে ওঠার গেটও বন্ধ করে রাখা হতো। এসব ছিল অবৈধ স্থাপনা।

এ ছাড়া পুরো ভবনে কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। এসব অব্যবস্থাপনার কারণেই সেদিন এত মানুষ মারা যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই ভবনের মালিক দোকানমালিক এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বে অবহেলা, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং তাদের আচরণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হবে।

নরসিংদীতে অজ্ঞাত রোগে শতাধিক ছাগলের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা

চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের চারটি ড্রাম জব্দ, আটক ১

রাজশাহীতে আন্তজেলা ডাকাত চক্রের ‘মূল হোতা’ গ্রেপ্তার

সংকটেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, যুবককে কুপিয়ে জখম

নেত্রকোনায় যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, আটক ৪

যশোর শিক্ষা বোর্ডের আলোচিত চেক জালিয়াতির মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

কুড়িগ্রামে ভুট্টাখেতে টর্চ জ্বালিয়ে জুয়া খেলা, গ্রেপ্তার ৬

খুবি ছাত্রী নিহতের ঘটনায় প্রাইভেট কার জব্দ, চালক আটক হয়নি

খুলনায় বাসের ধাক্কায় নারী নিহত