টাঙ্গাইলের সখীপুরে গৃহবধূ মুক্তা বেগম (৩৫) হত্যা মামলায় তাঁর ছেলে মুরাদ হাসানকে (১৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুরাদ তার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে কাতারপ্রবাসী আলহাজ মিয়ার স্ত্রী মুক্তা বেগমের কম্বলে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তাঁর ছেলে মুরাদ হাসান পলাতক ছিল।
স্থানীয়রা জানায়, মুরাদ মাদকাসক্ত বলে ধারণা করা হয়। টাকার জন্য সে মাকে হত্যা করে পালিয়ে যেতে পারে বলে সন্দেহ করেন এলাকাবাসী। পরে মুক্তা বেগমের বাবা বাদী হয়ে নাতি মুরাদের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকেই মুরাদের বাবা কাতারপ্রবাসী আলহাজ মিয়া ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে মুরাদের মোবাইল ফোন চালু হলে তিনি ছেলেকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থান জানায় মুরাদ। পরে পুলিশ ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আরও বলেন, গ্রেপ্তারের আগে মোবাইল ফোনে মুরাদ বলেছে, ‘আমি যে অপরাধ করেছি, আমাকে তোমরা মেরে ফেলবা।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, মুরাদ হাসান নামের ওই কিশোরকে ভালুকার সিডস্টোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না—তা এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব স্পষ্ট হবে।