ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন নারী প্রার্থী দেয়নি এবং নির্বাচনে কীভাবে নারীরা প্রতিনিধিত্ব করছেন, এসব বিষয়ে জেলা পর্যায়ে নারীদের সঙ্গে কথা বলে মতামত ও ব্যাখ্যা নিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্যরা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে চাঁদপুর জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক বৈঠকে নারী দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক লার্স প্লাজম্যান ও মাজা হুরালিমান।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তাঁরা মহিলা জামায়াতের বিভিন্ন বিভাগের নারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বৈঠকে মহিলা জামায়াতের কুমিল্লা অঞ্চলের সহকারী সেক্রেটারি ফেরদৌসী সুলতানা, চাঁদপুর জেলা মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফারজানা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা, পৌর মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মানসুরা আক্তার, পেশাজীবী মহিলা বিভাগ নেতা নাসরিন সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠক শেষে জেলা মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফারজানা আক্তার বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল জানতে চেয়েছে নির্বাচনে নারীদের পক্ষে আমরা প্রতিনিধিত্ব করছি কি না, সামনেও করব কি না। এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রার্থী দেখতে পাচ্ছেন না তারা। এ ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যাগুলো কোথায়। আমরা বলেছি, বিগত সরকারের সময়ে মহিলা জামায়াতের পক্ষ থেকে পরিচয় দিয়ে সমাজে কথা বলার মতো পরিবেশ ছিল না। ৫ আগস্টের পর আমরা মাত্র অল্প সময় পেয়েছি। এই সময়ের মধ্যে আমাদের মহিলা জামায়াতের নারীরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার যথেষ্ট সময়ও পায়নি।’
ফারজানা আক্তার আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলা জামায়াতের অংশগ্রহণ রাখে এবং মতামতকে অনেক গুরুত্ব দেয়। যোগ্যতার বিচারে নারীরা কোনো অংশে পিছিয়ে থাকবেন না। ভবিষ্যতে মহিলা জামায়াতের নির্বাচনসহ সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ থাকবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক সদস্যরা জানান, তাঁরা জামায়াতের নারী বিভাগ, শিক্ষার্থী ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে কথা বলছেন। এটি তাঁদের কাজের অংশ।