হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের উপকূলে তরমুজ চাষ, ফলন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি

মো. ইমরান হোসাইন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) 

তরমুজখেতে এক কৃষক। ছবি: আজকের পত্রিকা

খেতজুড়ে সারি সারি তরমুজ। কোথাও বড়, কোথাও মাঝারি আকারের। কোনো খেতে তরমুজ তোলার কাজ চলছে, আবার কোথাও বিক্রির জন্য জমির এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়ার ফুলতলী গ্রামে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

পারকি বাজারের সেতু পার হয়ে বাঁ পাশে এগোলেই ফুলতলী গ্রাম। গ্রামটিতে বছরের পর বছর ধরে তরমুজ চাষ করছেন কৃষকেরা। ভালো স্বাদের কারণে এই গ্রামে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি হয় ভালো দামে।

কৃষকেরা জানান, বালু ও এঁটেল মাটির মিশ্রণের কারণে উপকূলীয় এলাকার জমিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়। তবে কয়েক বছর ধরে গ্রামটিতে সাগরের লোনাপানি ঢুকে পড়ছে। এ কারণে মাটির উর্বরতা শক্তিও কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে তরমুজের আকার ছোট হচ্ছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে ফলন এবার বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বালুতে ছোট ছোট লতায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন আকারের তরমুজ। চাষিরা পানির জন্য মাঠেই খনন করেছেন কূপ। মাঠের একপাশে ছোট্ট ঘর বেঁধে তাঁরা সার্বক্ষণিক তরমুজখেত পাহারা দিচ্ছেন।

উপকূলীয় ফুলতলী এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় ২৮ জন কৃষক তরমুজ চাষ করেছেন। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ মিয়া (৬০) দুই কানি, মো. সোলেমান (৫৫) দেড় কানি, বাঁচা মিয়া (৬০) দেড় কানি, আবদুর রহিম (৫৫) দুই কানি ও ফোরকান (৪৫) চার কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কৃষকদের মধ্যে অনেকে নিজস্ব জমিতে আবার অনেকে বন্ধকের জমিতে তরমুজ চাষ করছেন। প্রতি কানিতে ৬ হাজার টাকা বন্ধকি দিতে হয়। ইতিমধ্যে খেতের তরমুজ চার থেকে পাঁচ কেজি আকারের হয়েছে। তবে পাতা কোঁকড়ানো ও ছত্রাক রোগের কারণে চিন্তিত কৃষকেরা।

চাষি মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘তিন প্রজন্ম ধরে তরমুজ চাষ করে আসছি। চলতি বছর আমি চার কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়। বীজ রোপণের ৬০ দিনেই তরমুজ বিক্রির উপযুক্ত হয়। এখন বিক্রি শুরু হয়েছে, প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা করে বাগান থেকেই পাইকারেরা নিয়ে যাচ্ছেন। তবে বাগানে পাতা কোঁকড়ানো ও ছত্রাক রোগের সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি উৎপাদন করেন কৃষকেরা। এর মধ্যে ৫০ হেক্টর জমিতে ১৪০ থেকে ১৫০ জন চাষি তরমুজ চাষ করেন। এসব তরমুজের মধ্যে গ্লোরি জাম্বু, গ্লোরি, বিগপ্লাস, এশিয়ান প্লাস, সুইট ড্রাগন, বিগ ফ্যামিলি, চ্যাম্পিয়ন, সুপার এমপেরর, বাংলালিংক ও পাকিজা জাত রয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, ‘উপকূলের তরমুজ বেশ সুস্বাদু এবং ফলনও ভালো। কৃষকেরা নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ না দেওয়ার কারণে তরমুজগাছ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।’

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহমদ সরকার বলেন, ‘উপকূলের তরমুজচাষিদের জন্য বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের মাঠকর্মীরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ।’

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: লিখিত স্টেটমেন্টে হত্যার কথা স্বীকার করলেন অভিযুক্ত ফজলুর

নিহত ইবি শিক্ষিকার দাফন আজ, হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার

কোটালীপাড়ায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো ১০ মণ মরা গরুর মাংস, বিক্রেতাকে জরিমানা

খিলগাঁওয়ে জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, ২৫০ ভরি সোনা-রুপা লুটের দাবি

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল

সাতক্ষীরায় প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

সুন্দরগঞ্জে কৃষিজমিতে পুকুর খনন, মাটি পরিবহনকারী গাড়ির চাপে নষ্ট হচ্ছে সড়ক

‘দেশে ফিরে মনভরে শ্বাস নিতে পারছি’

ঘুষ নিয়ে ২০ মৎস্যজীবী সমিতিকে হঠাৎ নিবন্ধন