‘আমি এমপি প্রার্থী হাবিবা। ভাইস চেয়ারম্যান দাঁড়ানু না দাদু আমি? ওই হাবিবা আমি। ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পরে তো চেয়ার কাইড়ে নিল। দয়া করে আমার ফুটবল মার্কায় ভোটটা দিয়েন।’ এভাবেই মানুষের কাছে ভোট চাইছেন রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম।
হাবিবার স্বামী মাসুদ রানা একসময় চায়ের দোকান দিতেন। দুই বছর থেকে দোকানটিও আর নেই। নিজের মার্কা ফুটবল প্রতীকের পক্ষে বড় ধরনের প্রচার চালানোর মতো আর্থিক সংগতি নেই এই নারীর। তাই একা ভোটারদের কাছে ছুটতে হচ্ছে তাঁকে।
আসনটিতে মোট প্রার্থী ছয়জন হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির শফিকুল হক মিলন এবং জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদের মধ্যে। বড় দুই প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন হাবিবা।
ভোটের রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। ঘাসিগ্রাম ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালে তৎকালীন এমপি আয়েন উদ্দিনের প্রার্থীকে টেক্কা দিয়ে ৪৩ হাজার ভোটে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ওই পদ থেকে তাঁকে অপসারণ করা হয়।
হাবিবা উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু সম্পর্ক ভালো ছিল না স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে। ফলে নিজ দল ক্ষমতায় থাকলেও তখন হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। বলছেন, ‘যারা অপরাধ করেছে তারা পালিয়েছে। আমি অপরাধ করলে আপনাদের সামনে আসতে পারতাম না।’
হাবিবা বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ করে মানুষের অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হোক।’