যশোরের আলোচিত ‘গোফরান বাহিনীর’ প্রধান নাসির শেখ ওরফে গোফরান শেখসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) গভীর রাতে খুলনার রূপসা থানার জাবুসা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অভয়নগর উপজেলার ধুলগ্রামের তছির শেখের ছেলে নাসির শেখ ওরফে গোফরান শেখ (৪০) ও ইছামতি গ্রামের মিজানুর রহমান মোল্লার ছেলে সোহেল রানা (২৮)। তাঁরা চরমপন্থী সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এবং ‘গোফরান বাহিনী’ নামে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। নাসির শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টির বেশি মামলা এবং ১১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার দুপুরে ব্রিফিংয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, ১ মার্চ রাতে অভয়নগর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে সোহেল শিকদারের বাড়িতে হানা দেয় গোফরান বাহিনী। ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাড়ির মালিকের শয়নকক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা, একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল, একটি এইচপি ল্যাপটপ ও একটি ভিভো মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অভয়নগর থানায় মামলা করেন সোহেল শিকদার। এরপর ডিবি পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার রূপসা থানাধীন জাবুসা গ্রামে অভিযান চালিয়ে গোফরান বাহিনীর প্রধান নাসির শেখ ও তাঁর সহযোগী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল, একটি এইচপি ল্যাপটপ ও একটি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তার নাসির শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১টি চাঁদাবাজি, সাতটি অস্ত্র ও দুটি হত্যা মামলা এবং ১১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর সহযোগী সোহেল রানার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। তাঁরা যশোর ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিলেন।