রাঙামাটিতে সৌদিয়া পরিবহনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের একমাত্র পরিবহন পাহাড়িকা বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাসটির চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী বাস চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল থেকে বাস না পেয়ে বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা।
জানা গেছে, রাঙামাটি-ঢাকাগামী সৌদিয়া পরিবহনের বাস সার্ভিস গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে চালু করা হয়। এসময় তারা জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মালিক সমিতি থেকেও অনুমতি নেয়। গতকাল বুধবার রাতে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সমিতির কয়েকজন রির্জাভ বাজারে সৌদিয়া কাউন্টারে গিয়ে হামলা চালায় এবং কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তালা খুলে দেওয়া হয়।
সৌদিয়া পরিবহনের পক্ষ আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমরা সব নিয়ম মেনে গাড়ি চলালেও রাঙামাটিতে জাতীয় একটি রাজনৈতিক দলের কয়েক নেতা আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে তারা সৌদিয়া পরিবহন বন্ধ করে দেয়।’ তবে সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, কোনো চুক্তি না করে বিনা অনুমতিতে গাড়ি চালানোর কারণে সৌদিয়া পরিবহনের বাস বন্ধ করে দিয়েছিল।
আজ সকাল থেকে রাঙামাটিতে বাস না পেয়ে যাত্রী সাধারণসহ স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ে। সকাল থেকেই সড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বিকল্প কোনো যানবাহন না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি।
মোটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সৌদিয়া পরিবহনের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের কারণে বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়িকা পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যাত্রীরা। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে তারা। তবে এ বিষয়ে বিআরটিএ, পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।