পুশ ইনের চেষ্টা
পুশ ইনের চেষ্টায় ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১১ জন এবং পঞ্চগড় সীমান্তের ১০ জনকে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত রোববার রাতে দুই সীমান্ত থেকে ওই ব্যক্তিদের ভারতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্ত দিয়ে কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে সফল হয়নি ভারতীয় বাহিনীটি।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা মানবেতর জীবনযাপন করা অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশুসহ ১১ জনকে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর গত রোববার গভীর রাতে তাদেরকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গতকাল সকালে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের (ঠেল পাঠানো) চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সতর্ক নজরদারির কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে নিরুপায় হয়ে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়েছিল। ওই ১১ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশু।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা সেই ১০ নারী-পুরুষ-শিশুকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। রোববার গভীর রাতে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সীমান্তের ফ্লাডলাইটও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি বাধা দিলে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের শূন্যরেখা-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে থাকে। এরপর টানা প্রায় ৭০ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে তারা। কয়েক দফা বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাদের সেখানে থাকতে হয়।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার মধ্যরাতে বিএসএফ ওই ১০ জনকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। যাওয়ার আগে আমাদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তে কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ভূখণ্ডে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। রোববার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্দা ও ঝাউবাড়ী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয়রা তাদের প্রতিহত করেছে।
বকবান্দা গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গত শনিবারও বিএসএফ কয়েকজনকে পুশ ইনের জন্য সীমান্তে নিয়ে এসেছিল। বিজিবি ও স্থানীয়রা সতর্ক ছিল বিধায় পুশ ইন করতে পারেনি। গতকাল আবারও তারা চেষ্টা করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রৌমারী সীমান্তের খেওয়ারচর বর্ডার আউট পোস্টের (বিওপি) দায়িত্বে থাকা বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের এক দায়িত্বশীল সদস্য বলেন, বিএসএফ শনিবার বকবান্দা ও ঝাউবাড়ী সীমান্তে অবৈধভাবে পুশ ইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল আবারাও তারা চেষ্টা করেছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও গ্রামবাসী পাহারা দিচ্ছে, যাতে কাউকে অনুপ্রবেশ করাতে না পারে।