হোম > শিল্প-সাহিত্য

জয়ন্তীর আয়োজনে আটকে আছে নজরুলচর্চা

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা

কাজী নজরুল ইসলাম

গান, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, সাংবাদিকতা, চলচ্চিত্র—শিল্প-সাহিত্যের প্রায় সব জায়গায় স্বাক্ষর রেখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। এই জনপদের স্বাধীনতাসংগ্রামেও জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। জাতীয় কবিও তিনি। তাঁর নামে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। আছে ইনস্টিটিউট। গবেষকেরা বলছেন, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় নজরুল এবং তাঁর কাজ উপেক্ষিত। শুধু জন্মা বার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকীর গতানুগতিক আয়োজনে সীমাবদ্ধ তিনি।

৪০ বছর ধরে জাতীয় কবির গান নিয়ে কাজ করেন শিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি মনে করেন, এই সময়ে নজরুলকে নিয়ে দু-চার কথা বলে নিজেকে জাহির করার লোকের অভাব পড়ছে না। কিন্তু প্রকৃত নজরুলচর্চা আশি ভাগই নেই। তিনি বলেন, ‘আমি ইতিবাচক মানুষ। কিন্তু বর্তমানে নজরুলচর্চার যে অবস্থা, তাতে নেতিবাচক কথা না বলে পারছি না। সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যাবে, নজরুলকে নিয়ে কাজ আছে। অসংখ্য গবেষকও দেখা যাবে। যে কেউ কিছু একটা লিখেই গবেষক হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রকৃত নজরুলচর্চা কই। আমাদের দেশে নজরুলকে আনার পরে দুই দশক বেশ ভালো চর্চা হয়েছিল, কিন্তু এখন আর প্রকৃত চর্চা দেখতে পাচ্ছি না।’

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিচর্চায় মঞ্চনাটক একটা বড় ভূমিকা পালন করে। মঞ্চনাটকেও নজরুল অবহেলিত বলে মনে করেন নাট্যকর্মীরা। ঢাকাসহ সারা দেশের নাটকের দিকে তাকালে নজরুলকে নিয়ে কিংবা নজরুলের সৃষ্টি নিয়ে নাটক হাতে গোনা। এগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের তির্যক নাট্যদলের ‘মধুমালা’, লোক নাট্যদল টিএসসির ‘ঝিলমিলি’, ‘আলেয়া’ গীতিনাট্য অবলম্বনে প্রাঙ্গণেমোরের ‘দ্রোহ প্রেম নারী’, ‘সাপুড়ে’ গল্প অবলম্বনে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ‘নীলাখ্যান’-এর কথা বলা যায়। সংস্কৃতিকর্মী মুন্তাজী মুন বলেন, ‘বাংলাদেশে নজরুলচর্চায় যথেষ্ট কাজ হচ্ছে না।

এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের চেতনা ও সাম্যের প্রতীক। নতুন প্রজন্মের মাঝে তাঁর সাহিত্য, গান ও মানবতার বার্তা আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া দরকার।’

ঢাকার মঞ্চে ‘নীলাখ্যান’ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক। তিনি বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশের মঞ্চে নজরুলের নাটক খুব বেশি হয় না। নজরুলের যা কিছু নাটকের চর্চা একাডেমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কখনো কখনো হয়েছে; ঢাকার মঞ্চে, মানে নগরমঞ্চে দর্শনীর বিনিময়ে খুব বেশি হচ্ছে না। তবে আমি মনে করি, নজরুলের নাটক আরও বেশি হওয়া উচিত। নজরুলের কবিতা বা গানের চর্চা যতটা হয়, নাটকের চর্চা অতটা নেই। নজরুলের সাহিত্যকে উপজীব্য করে বা তার নাটক মঞ্চে আরও বেশি হওয়া দরকার।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন ফরহাদ মনে করেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে যেভাবে চর্চা করা উচিত, সেভাবে না করার একটা বড় কারণ—বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের নজরুলকে নিয়ে উদাসীনতা। তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনাকে স্মরণ করি, ব্যবহার করি। আমাদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, স্বাধীনতাসংগ্রামে নজরুলের গান-কবিতা ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক যে জুলাই অভ্যুত্থান হলো, সেখানেও নজরুলের কবিতা, গান ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে দেখবেন, কী এক কারণে নজরুল অনুপস্থিত। এই দায় আমি মনে করি আমাদের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের। যাঁরা শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন।’

জাতীয় কবি হিসেবে বাঙালির জাতীয় জীবনে নজরুলের চেতনা থেকে কতটুকু নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত নজরুল গবেষক ড. আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, ‘জাতীয় কবি এবং তাঁর সৃষ্টির প্রভাব আমাদের জীবনে ঐতিহাসিকভাবে রয়েছে। কিন্তু তাঁকে চর্চা শুধু জন্মদিনের উদ্‌যাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। তাঁকে আমরা পাঠ করছি কম, অনুধাবন করি কম, কিন্তু তাঁকে নিয়ে বলি খুব বেশি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আত্মপরিচয়ের সংকটে নজরুলের ভূমিকার প্রতিফলন আমাদের দৈনন্দিন চালচিত্রে বোঝা যায় না। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। জাতির যে চেতনা কাজী নজরুল ইসলাম থেকে, তাঁর কতটুকু গ্রহণ করছি, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমি মনে করি, পঠন-পাঠন এবং অনুধাবন—সব দিক থেকে নজরুলের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া গল্প এআই দিয়ে লেখার অভিযোগ

নজরুল পুরস্কার পাচ্ছেন অধ্যাপক রশিদুন্ নবী ও ফাতেমা তুজ জোহরা

সাময়িক কার্যক্রম স্থগিত সেবা প্রকাশনীর

কবিগুরুকে নিয়ে চিত্রকর্ম ‘রবির চিত্র, চিত্রের রবী’, প্রদর্শনী চলবে ১৩ দিন

ছায়ানটে অনুষ্ঠিত হলো সমধারার দ্বাদশ কবিতা উৎসব

৩ বছর পর নতুন উপন্যাস প্রকাশের ঘোষণা দিলেন হারুকি মুরাকামি

শুরু হলো জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন

‘পানু পাল নাট্যপদক’ পেলেন ‘আনর্ত’ সম্পাদক রহমান রাজু

বিশ্ব মহারাজার লিমেরিক

সমধারা দ্বাদশ কবিতা উৎসব ২৫ এপ্রিল