হোম > বিশ্লেষণ

২ লাখ ২৯ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে নতুন ব্রিটিশ-মার্কিন চুক্তি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গত ডিসেম্বরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। ছবি: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন ওষুধ-বাণিজ্য চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (এনএইচএস) থেকে বিপুল অর্থ নতুন মার্কিন ওষুধ কেনায় ব্যয় করতে হবে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত অর্থসংকটে পড়বে এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি গবেষণা।

গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ওষুধ ব্যয়ের কারণে এনএইচএসের সীমিত বাজেটের বড় অংশ অন্য সেবা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। এতে চিকিৎসা, জনবল নিয়োগ, হাসপাতাল সেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রোগীদের ওপর।

এ বিষয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ওই ওষুধ-বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র আগামী তিন বছর ব্রিটিশ ওষুধ ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি পণ্যের ওপর নতুন কোনো শুল্ক আরোপ করবে না। এর বিনিময়ে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ২০২৬ সালে জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ২০৩৬ সালের মধ্যে নতুন মার্কিন ওষুধে ব্যয় অন্তত শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করবে। ফলে এনএইচএসের মোট বাজেটের মধ্যে ওষুধ খাতে ব্যয় ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১২ শতাংশে পৌঁছাবে।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানমন্ত্রী প্যাট্রিক ভ্যালান্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে এনএইচএসের রোগীরা এমন অনেক নতুন ওষুধ পাবেন, যা আগে তাঁদের নাগালের বাইরে ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য শতাংশ শুল্ক-সুবিধা পাওয়ায় ব্রিটেনের জীবনবিজ্ঞানশিল্পও লাভবান হবে।

তবে বিএমজেতে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, এনএইচএসের মোট বাজেট না বাড়িয়ে কেবল ওষুধ খাতে ব্যয় বাড়ানো হলে স্বাস্থ্যসেবার অন্য ক্ষেত্রগুলোতে বড় ধরনের ‘সুযোগ ব্যয়’ (Opportunity Cost) তৈরি হবে। অর্থাৎ, নতুন ওষুধ কেনার জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে, সেই অর্থ আর চিকিৎসক নিয়োগ, অপেক্ষার সময় কমানো, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি কিংবা অন্যান্য চিকিৎসাসেবায় ব্যবহার করা যাবে না।

গবেষণার সহলেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের ফার্মাকোলজি ও থেরাপিউটিকস বিভাগের অধ্যাপক স্যামুয়েল ক্রসের মতে, এই চুক্তি মূলত ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হলেও এর মূল্য দিতে হবে এনএইচএসের রোগীদের। তিনি বলেন, পরিসংখ্যানই সবকিছু বলে দিচ্ছে।

গবেষণায় হিসাব করে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী হলে ২০২৮ সালের মধ্যে এনএইচএসকে প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১৩০ কোটি পাউন্ড এবং ২০৩৬ সালে গিয়ে প্রায় ৮৮০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। পুরো সময়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪৭০ কোটি পাউন্ডে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হলে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ও মৃত্যুহার বাড়বে, ফলে সামাজিক পরিচর্যা খরচও বাড়বে।

গবেষকদের মতে, শুধু এনএইচএসের সরাসরি বাজেট সংকোচনের প্রভাব বিবেচনা করলেও ২০৩৬ সালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটতে পারে। আর সামাজিক পরিচর্যার প্রভাব যুক্ত করলে সম্ভাব্য অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৯১ হাজারে পৌঁছাতে পারে। তুলনামূলকভাবে, যুক্তরাজ্যে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার।

গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা ও ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা। পাশাপাশি স্নায়বিক, অন্তঃস্রাবী, অস্থি-পেশি ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিকারবিষয়ক সংগঠন গ্লোবাল জাস্টিস নাউয়ের কর্মী টিম বিয়ারলি অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তির ফলে এনএইচএসের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিগুলোর দিকে চলে যাবে। তাঁর দাবি, সংসদে যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়াই চুক্তিটি দ্রুত অনুমোদন করা হয়েছে এবং সরকার এখনো এনএইচএসের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি।

গবেষকেরা চুক্তির স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশ করে এই চুক্তি সত্যিই ব্রিটেনের জনগণের স্বার্থে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের নতুন টার্গেট তুরস্ক ও ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ অক্ষ, কী করবে মধ্যপ্রাচ্য

ম্যারাডোনা থেকে মেসি: বাংলাদেশিরা আর্জেন্টাইন ফুটবলার কেন এত বেশি পছন্দ করে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ কী বার্তা দিল

বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, প্রশ্নের মুখে ফিফার মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি

দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশকে কী বার্তা দিল ভারত

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ কি তবে আসন্ন

বিশ্বকাপে ভাইরাল তারকাদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু

প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়ে ভ্যান্স-রুবিও দ্বৈরথ প্রকাশ্যে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রভাব সুদূরপ্রসারী: গ্লোবাল টাইমসের নিবন্ধ

ইরান যুদ্ধ যেসব কারণে আমেরিকা-ইসরায়েলের কৌশলগত বিপর্যয়