হোম > বিশ্লেষণ

বিশ্বমঞ্চ ও দক্ষিণ এশিয়ায় তারেক রহমানের প্রভাব কেমন হবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত বছরের বড়দিনে স্বদেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। আর মাত্র সাত সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। তাঁর এই উত্থান বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বরাজনীতিতে কীরূপ প্রভাব ফেলবে?

এ নিয়ে মার্কিন ম্যাগাজিন ‘টাইম’ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের সাধারণ নির্বাচনে ৩০০ সদস্যের জাতীয় সংসদে তারেক রহমানের দল বিএনপি প্রায় ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এটাই প্রথম জাতীয় নির্বাচন।

জানুয়ারির শুরুতে টাইম ম্যাগাজিন তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বসে। সেখানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সামাজিক বিভাজন নিরসনে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অগ্রাধিকার কী হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আইনের শাসন নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা। আমরা যে রাজনৈতিক কর্মসূচিই দিই না কেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’

টাইমের একান্ত সাক্ষাৎকার থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—

জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ক্ষত এখনো তাজা। হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনী, আদালত, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। এবার তারেক রহমান ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন এবং প্রতিশোধ পরায়ণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনবে না। বরং যদি আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তাহলে ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব।’

অর্থনীতির পুনর্গঠন

হাসিনার শেষ মেয়াদে বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি ছিল। জিডিপি ২০০৬ সালের ৭১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২২ সালে ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে মূল্যস্ফীতি, বৈষম্য ও যুব বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে ক্ষোভ বাড়ে।

বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল টাকা সাধারণ মানুষের বাস্তব আয় কমিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, অথচ তরুণদের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশই বেকার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানি সীমিত হয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চার কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যে বাস করছে। বিএনপির একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মাধ্যমে নারী ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তা প্রদান। তবে এর অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তারেক রহমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে সংযোগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাত উদারীকরণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ভাষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিতে পারি।’

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন

রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে আঞ্চলিক শক্তি ভারত এবং প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে। হাসিনার পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। তিস্তা নদীর পানিবণ্টনসহ বেশ কিছু বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। বিএনপি ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে স্বাক্ষরের কথা বলেছে, যাতে ‘ন্যায্য পানির প্রাপ্যতা’ নিশ্চিত করা যায়।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অবশ্যই প্রতিবেশী। তবে বাংলাদেশের স্বার্থই আগে।’

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও আলোচনা সাপেক্ষে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। মার্কিন পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ানো এবং মার্কিন তুলা ব্যবহার করা তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আরও শুল্ক সুবিধা আদায়ের সম্ভাবনার কথাও বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরকে সহায়তা করতে পারি।’

ইসলামপন্থার উত্থান

নির্বাচনে বিএনপি ছাড়াও প্রধান সুবিধাভোগী হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। যাদের ওপর হাসিনা আমলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। দলটি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

তবে সমালোচকদের মতে, দলটির অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নারীর অধিকার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

যদিও বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে, তবুও জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে থাকবে। তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় না ফিরি।’

ছাত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ

হাসিনার পতন ঘটানো আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ছাত্রদের হাত ধরে। পরবর্তী সময় তা ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তবে নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর আধিপত্যে অনেক তরুণ হতাশ।

প্রাক্তন ছাত্রনেত্রী তাসনিম জারা বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের সম্ভাবনা আছে, তবে তা রাতারাতি আসবে না। স্থানীয় পর্যায়ে সৎ ও নীতিবান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেছেন, ‘যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের বড় দায়িত্ব রয়েছে।’

প্রথম নির্বাচনেই হোঁচট খেল তরুণদের দল এনসিপি

‘হ্যাঁ’ জিতল গণভোটে, গণরায়ের ফলে কী কী পরিবর্তন আসবে

সারা বিশ্ব কেন বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে

সরকার বদলানো সহজ, চাকরি পাওয়া কঠিন—বাংলাদেশে জেন-জির হতাশা

এক বয়ামে দুই বিচ্ছু, নিজেদের রাজনৈতিক ফাঁদে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

গণতন্ত্রের গভীরতর সমস্যাকে উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ

এআইকে প্রশিক্ষণ দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্নো ও সহিংস ভিডিও দেখতে হচ্ছে ভারতীয় নারীদের

বাংলাদেশের নির্বাচন বদলে দিতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য

স্পেসএক্স–এক্সএআই একীভূতকরণ: রকেট আর এআইকে কেন এক সুতোয় বাঁধছেন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে যুদ্ধে যেভাবে জেতার পরিকল্পনা করছে ইরান