হোম > বিশ্লেষণ

ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ালেও ইরান প্রশ্নে নীরব কেন ব্রিটেন-ফ্রান্স

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে মার্কিন মিত্রদের আসল রূপ উন্মোচিত হচ্ছে। একদিকে ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা যখন ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানাচ্ছে, তখন ইউরোপের অবস্থান একেবারেই ম্রিয়মাণ। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইউরোপীয় নেতাদের এই দ্বিধাদ্বন্দ্বকে ‘ভিতু আচরণ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে ইউরোপ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, ইরানের ক্ষেত্রে তারা কেন এত রক্ষণশীল—প্রশ্নটি তুলেছেন ব্রিটিশ লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যাভিন মর্টিমার।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তাঁর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন; কারণ, ব্রিটেন আমেরিকার এই অভিযানে সরাসরি যোগ দিতে অনীহা দেখিয়েছে। শুধু ব্রিটেন নয়, স্পেনের সোশ্যালিস্ট প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও এই ‘একতরফা সামরিক পদক্ষেপ’-এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বারবার ‘সংযম’ প্রদর্শনের কথা বলছেন। তাঁদের মতে, এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলবে।

গত বছর ফন ডার লিয়েন ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘শিকারি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং শক্তিশালী উপায়ে তাঁকে দমনের কথা বলেছিলেন। রাশিয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপ যতটা সাহসী, ইরানের ক্ষেত্রে ততটাই জড়সড়। এর কারণটি হলো কৌশলগত—রাশিয়া ইউরোপের ভেতরে সরাসরি গণবিক্ষোভ বা অস্থিরতা তৈরির ক্ষমতা না রাখলেও ইরান তা অনায়াসেই করতে পারে।

ইউরোপে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মুসলিম বাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ। যদিও তাদের একটি বড় অংশ তেহরানের গত জানুয়ারির নৃশংসতার কথা মাথায় রেখে মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণকে সমর্থন করবেন, কিন্তু ইউরোপীয় সরকারগুলো ভয় পাচ্ছে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে। ২০২৩ সাল থেকে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইউরোপের শহরগুলোতে যে বিশাল বিক্ষোভ দেখা গেছে, তার তুলনায় ইরানিদের মুক্তির দাবিতে রাজপথে উপস্থিতি ছিল নগণ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক গিলেস কেপেল মনে করেন, গাজা যুদ্ধের মতো ইরান যুদ্ধও ইউরোপের ভেতরে আমদানি করা হতে পারে। তাঁর মতে, ‘ওকিজম’ এবং ‘ইসলামো-লেফটিজম’-এর সংমিশ্রণ ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করবে।

ইউরোপের অনেক বামপন্থী নেতা আমেরিকার এই হামলাকে ‘অবৈধ’ এবং ‘উসকানি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্কটিশ গ্রিন পার্টির নেতা ট্রাম্পকে ‘গ্যাংস্টার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফ্রান্সে জঁ-লুক মেলেনচঁর দলও ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, মুসলিম ভোটারদের তুষ্ট করে নির্বাচনী সুবিধা পেতেই অনেক বামপন্থী দল ইরানের ‘খুনি মোল্লাদের’ পক্ষ নিচ্ছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগটি হলো সন্ত্রাসবাদ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, ইরান তার প্রক্সি বা মিলিশিয়াদের ব্যবহার করে ইউরোপের মাটিতে হামলা চালাতে পারে। ফরাসি গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ইরান অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং মাদক পাচারকারীদেরও নিজের স্বার্থে নিয়োগ করছে।

ইউরোপের অরক্ষিত সীমান্ত এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত বছর ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডে অবৈধভাবে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের ১১ শতাংশই ছিল ইরানি। তাদের মধ্যে কতজন তেহরানের পাঠানো গুপ্তচর, তা জানার কোনো উপায় ব্রিটিশ সরকারের কাছে নেই।

ইউরোপের এই আতঙ্ক নতুন কিছু নয়। ১৯৮৯ সালে যখন আয়াতুল্লাহ খামেনি সালমান রুশদির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিলেন, তখনই উগ্রপন্থার সামনে ইউরোপের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছিল। ইউরোপ জানে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা স্বৈরতান্ত্রিক এবং সে দেশের মানুষ মুক্তি চায়; কিন্তু নিজের ঘরের ভেতরে আগুন লাগার ভয়ে তারা সরাসরি রুখে দাঁড়াতে পারছে না। এই ‘ভিতু’ নীতিই হয়তো দীর্ঘ মেয়াদে ইউরোপকে আরও বড় বিপদের দিকে ঠেলে দেবে।

ইরান যুদ্ধ পতন ঘটাতে পারে তালেবানেরও

দুই মাসে নেই দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র—তবু চীন কেন চুপ

ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না রাশিয়া, আতঙ্ক ভর করেছে

তুরস্কের আকাশে ইরানি ড্রোন, এরদোয়ান কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন

ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা ভুলে গেছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র কি খাল কেটে আনা কুমির, এবার ভাববে জিসিসি দেশগুলো

ট্রাম্পের যুদ্ধের মস্তিষ্ক হয়ে উঠছে এআই, বিপজ্জনক ভবিষ্যতের পথে বিশ্ব

ইরানের ‘ফরোয়ার্ড ডিফেন্স’: প্রতিবেশীদের আঙিনায় কেন বোমা ফেলছে তেহরান

ইরানে হামলায় এআই ব্যবহার করছেন ট্রাম্প, কোন পথে বিশ্ব

ইরানেই থামবে না ইসরায়েলের আঞ্চলিক আধিপত্যের যুদ্ধ, ‘আমালেক’ হবে আরও বহু দেশ