হোম > বিশ্লেষণ

ইসরায়েলিরা আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসে, কিন্তু আর্জেন্টাইনরা কি তাদের ভালোবাসে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে উদ্দেশ্য করে একটি বার্তা পাঠান। তিনি বলেন, ‘হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু, অসাধারণ বন্ধু। আমরা আপনাকে এবং আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করি।’ স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পরাজিত হলেও, নেতানিয়াহুর বার্তার পর এই ম্যাচটি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে এক গভীর রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ফুটবল মাঠে ভূ-রাজনীতির ছায়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আর্জেন্টিনাকে ‘ইসরায়েলের দল’ এবং স্পেনকে ‘ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরেন। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণও স্পষ্ট। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই তাঁর পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রেখেছেন ইসরায়েলকে। গাজা সংঘাতের শুরু থেকেই তিনি নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন এবং আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের অঙ্গীকার করেছেন।

অন্যদিকে, স্পেনের অবস্থান ঠিক তার বিপরীত। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গাজায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। দুই দলের তারকা খেলোয়াড়দের নিয়েও এই মেরুকরণ স্পষ্ট ছিল। লিওনেল মেসির ইসরায়েলের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা থাকলেও, স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল বার্সেলোনার হয়ে লিগ জেতার পর ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করেছিলেন।

ইসরায়েলি মন্ত্রীদের আর্জেন্টিনা প্রেম

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু একা নন, তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যও আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির প্রকাশ্যেই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিয়েছেন। স্মোতরিচ বলেছেন, ‘প্রতিটি দেশপ্রেমিক ইসরায়েলি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে। এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!’ এই সমর্থনকে তাঁরা মূলত প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের প্রতি তাঁদের বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন।

আর্জেন্টাইনদের মতামত কী

ইসরায়েলের এই প্রবল আর্জেন্টিনা-প্রীতি মূলত আর্জেন্টিনার জনগণের চেয়ে প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের প্রতি বেশি নিবেদিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়লাভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজন আর্জেন্টাইন সমর্থককে বলতে শোনা যায়, ‘কোনো প্রকৃত আর্জেন্টাইন ইসরায়েলকে সমর্থন করে না। আমাদের প্রেসিডেন্টকে যারা টাকা দিয়ে বসিয়েছে, তাদের কথায় বিশ্বাস করবেন না।’

পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক (ফেব্রুয়ারি-মে ২০২৬) একটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার ৫৫ শতাংশ মানুষ ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে মাত্র ২১ শতাংশের ইতিবাচক ধারণা রয়েছে।

ম্যারাডোনা বনাম মিলেইয়ের আমল

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাও সামনে আসছে। ম্যারাডোনা প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলতেন এবং ২০১৮ বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘মনেপ্রাণে আমি একজন ফিলিস্তিনি।’

২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কির্চনারের শাসনামলে আর্জেন্টিনা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাভিয়ের মিলেই পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছেন। তিনি আর্জেন্টিনাকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বলয়ের দিকে টেনে এনেছেন, যা আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষের আবেগের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।

মিডলইস্ট আই থেকে অনূদিত

বিশ্বজুড়ে এআই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে চীন!

ককরোচদের আন্দোলন যে ৭ কারণে অতীতের চেয়ে আলাদা

ভূরাজনৈতিক সংঘাতে কেন সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে ডিজেল

‘রামরাজ্য’ কেমন ছিল

উত্তর প্রদেশে নামবদলের রাজনীতি: যেভাবে মুসলিম ঐতিহ্য মুছে দিচ্ছেন আদিত্যনাথ

বিশ্বকাপ ফাইনাল: হেভি মেটাল বনাম নিখুঁত অর্কেস্ট্রার লড়াইয়ে জিতবে কে

ডোনাল্ড ট্রাম্পই কি সর্বশেষ মার্কিন জায়োনিস্ট প্রেসিডেন্ট

চীনের ৫০০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের বিপরীতে ভারতের শূন্য, ব্যবধান ঘোচাতে পারবে দিল্লি?

জ্বালানি ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করছে পাকিস্তান

মাঠের বাইরে মেসির অন্য সাম্রাজ্য: বিলাসবহুল হোটেল থেকে পোশাক সব খাতেই বিপুল বিনিয়োগ