গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরুর আগে পারস্য উপসাগর ও জর্ডানে মার্কিন সমরশক্তি জড়ো হওয়ার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে চীনা মিজার ভিশন স্যাটেলাইট কোম্পানি। এর পরপরই ইন্টারনেটে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ছবিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, মিজার ভিশনের সেই ছবিগুলো এমন কিছু দেখিয়েছিল, যা পশ্চিমা স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারীরা এত দিন সচেতনভাবে আড়াল করে এসেছে। বছরের পর বছর ধরে প্ল্যানেট ল্যাবস ও ম্যাক্সার টেকনোলজিসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এমন সব ছবি ফিল্টার করেছে বা প্রকাশ করেনি, যেগুলো মার্কিন–ইসরায়েলি স্বার্থের জন্য সংবেদনশীল বলে বিবেচিত। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি মোতায়েনের খোলামেলা দৃশ্য সাধারণ মানুষের সামনে খুব কমই এসেছে।
কিন্তু মিজার ভিশন সেই সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে দেয় এবং এসব সামরিক মোতায়েনের মতো বিষয়কে প্রকাশ্য আলোচনায় আনে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। পশ্চিমা করপোরেশনগুলো যেসব তথ্য নিয়মিত গোপন রাখে, সেগুলো একটি চীনা প্রতিষ্ঠান কেন প্রকাশ করবে? মিজার ভিশনের পেছনে কারা আছে? কেন এই চীনা কোম্পানি এমন সংবেদনশীল ছবি প্রকাশ করছে, যা সাধারণ মানুষ আগে কখনো দেখেনি?
প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিজার ভিশন মূলত বেসরকারি চীনা স্যাটেলাইটের তোলা ছবি পুনরায় বিক্রি করে। তবে চীনে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগে বেইজিংয়ের অনুমোদন লাগে। ফলে এ ধরনের ছবি প্রকাশের পেছনে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে চীনের স্যাটেলাইট বহরের ভূমিকা এবং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বা হুতি ঘনিষ্ঠ বাহিনী ও ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কূটনীতিক এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সন্দেহের বিষয় ছিল।
তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশ এ বিষয়ে অবগত ছিল না। তাদের ধারণা ছিল, সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য ইরান নিজস্ব সামরিক স্যাটেলাইট থেকেই ছবি সংগ্রহ করে। বাস্তবে ইরানের স্যাটেলাইট কর্মসূচি খুব সীমিত। ধারাবাহিক হাই রেজুলেশনের সামরিক গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার জন্য যে ঘনত্ব, ব্যাকআপ এবং স্থায়ী কভারেজ দরকার, তা তাদের নেই। যেমন ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল, তেমনি ইরানও এমন এক প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অংশীদারের ওপর নির্ভর করে, যে অবিরাম নজরদারি এবং দ্রুত স্যাটেলাইট নির্দেশনা দিতে পারে।
আর সেই অংশীদার হলো চীন।
ইরানের বর্তমানে ১৪টি সক্রিয় স্যাটেলাইট রয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত নোরাড সিস্টেমের অনলাইন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইটগুলো সেখানে ‘ডিকেইড’ বা ক্ষয়প্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধারণত স্যাটেলাইটগুলো কয়েক শ থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় বিভিন্ন কক্ষপথে স্থাপন করা হয় এবং নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত হয়। কিছু স্যাটেলাইট ‘জিওস্টেশনারি অরবিটে’ও রাখা হয়, যাতে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল দিনরাত পর্যবেক্ষণ করা যায়।
জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের কভারেজ এলাকা বা ‘ফুটপ্রিন্ট’ অনেক বড় হতে পারে। সবচেয়ে প্রচলিত ধরনের স্যাটেলাইট হলো ‘লোয়ার আর্থ অরবিট।’ এগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথ ধরে ঘোরে, তবে যেসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে যায় সেখানে তাদের কভারেজ এলাকা তুলনামূলক ছোট। একটি পাস কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।
স্যাটেলাইটের ভেতরের প্রযুক্তি বা ‘পে-লোড’ ঠিক করে দেয়, সেটি কী করতে পারবে আর কী পারবে না। ইরানের সম্প্রতি উৎক্ষেপণ করা ‘জাম–ই–জাম’ স্যাটেলাইটটি জিওস্টেশনারি, কিন্তু এর পে-লোড মূলত টেলিযোগাযোগের জন্য। ইরানের লোয়ার আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে মাত্র কয়েকটির ছবি তোলার ক্ষমতা রয়েছে, আর উচ্চমানের ইমেজিং প্রযুক্তি আছে মাত্র একটিতে। এ কারণেই ইরানের অংশীদার দেশের প্রয়োজন হয়।
চীনের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের সক্রিয় স্যাটেলাইটের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টির মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। এগুলো জিওস্টেশনারি, লোয়ার আর্থ অরবিট এবং বাইদুয়ো নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমের মতো বিশেষ কক্ষপথে কাজ করা স্যাটেলাইটসহ নানা ধরনের।
সামরিক ও বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম পাশাপাশি পরিচালিত হয়। অনেক বেসামরিক স্যাটেলাইটই নকশাগতভাবে দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী। যে স্যাটেলাইট একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সূক্ষ্ম বিবরণ দেখতে পারে, সেটি সমান সহজে একটি সামরিক ঘাঁটির মানচিত্রও তৈরি করতে পারে। চীনের এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি এমন যে—তা অবিরাম ইমেজিং, মেঘ ভেদ করে রাডার পর্যবেক্ষণ, সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, টেলিযোগাযোগ এবং ডাটা রিলে সেবা দিতে সক্ষম। পরিসর ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিকোন্যাইস্যান্স অফিস পরিচালিত ব্যবস্থার সমতুল্য। এই ব্যবস্থাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত আধিপত্যের ভিত্তি।
চীনের কক্ষপথগত অবকাঠামো বিশাল, বহুস্তরবিশিষ্ট এবং এর ব্যবহারে ক্রমেই আরও দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে বেইজিং।
জিলিন–১ নেটওয়ার্ক
মিজার ভিশন নিজে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বা পরিচালনা করে না। কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা লিউ মিংয়ের হাতে ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল। শেয়ারহোল্ডার তালিকায় সরাসরি কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিল নেই। তবে চীনের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হয়।
মিজার ভিশন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সিসহ ছয়টি বেসরকারি চীনা স্যাটেলাইট অপারেটরের কাছ থেকে ছবি কিনে থাকে। পরে সেগুলোতে প্রয়োজন হলে টীকা যোগ করে বিক্রি করে। এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—চ্যাং গুয়াং স্যাটেলাইট টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড। এটি চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
এই কোম্পানির পরিচালিত স্যাটেলাইট পরিবারটির নাম জিলিন–১। ২০২৪ সালের এক হিসাব অনুযায়ী এর প্রায় ১২০টি সক্রিয় ইউনিট রয়েছে। চীনের দ্রুতগতির স্যাটেলাইট কর্মসূচির কারণে প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরও বেশি। জিলিন–১ স্যাটেলাইটগুলো হাই রেজুলেশন ছবি তোলার জন্য তৈরি এবং পাঁচ থেকে দশটি স্যাটেলাইটের সমন্বিত ক্লাস্টার হিসেবে কাজ করে।
প্যানক্রোম্যাটিক সিস্টেম দৃশ্যমান ও ইনফ্রারেড তরঙ্গ একত্র করে ৫০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার রেজোলিউশনের সাদা-কালো ছবি তৈরি করতে পারে। মাল্টি-স্পেকট্রাল সিস্টেম দুই থেকে তিন মিটার রেজোলিউশনে রঙিন ছবি দেয়। উচ্চমানের ভিডিও ধারণ ক্ষমতায় ৯২ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার রেজোলিউশনের ভিডিও তৈরি করা যায়। এসব ভিডিও ৩০ থেকে ১২০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ ফ্রেম গতিতে ধারণ করা হয়।
সব আবহাওয়াতেই এই স্যাটেলাইটগুলো কাজ করতে পারে। প্রায় ৫৩৫ কিলোমিটার উচ্চতার লোয়ার আর্থ অরবিটালে কক্ষপথে ঘুরতে থাকা জিলিন–১ স্যাটেলাইটগুলো সারাক্ষণ সক্রিয় থাকে এবং রাতে বন্ধ হয় না। ক্লাস্টার সমন্বয়ের মাধ্যমে একই অঞ্চলে দিনে একাধিকবার পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়। স্যাটেলাইটগুলো অত্যন্ত গতিশীল। ভালো ছবি তোলার জন্য এগুলো কাত হয়ে বা অবস্থান বদলে লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ক্লাস্টার ব্যবস্থার কারণে একসঙ্গে একাধিক কাজ করা যায় এবং প্রায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি সম্ভব।
এগুলো দিনরাত নির্দিষ্ট অঞ্চল পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
তবে চ্যাং গুয়াং পুরোপুরি বেসরকারি নয়। তাদের স্যাটেলাইটের সংগৃহীত ছবি চীনের সশস্ত্র বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি বা গণমুক্তি ফৌজও ব্যবহার করে। জিলিন–১ স্যাটেলাইটগুলোর একটি বড় অংশ মূলত আঞ্চলিক নজরদারির কাজে নিয়োজিত, যার মধ্যে পশ্চিম এশিয়াও রয়েছে।
কক্ষপথ থেকে পাঠানো বার্তা
মিজার ভিশন যেসব ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলো প্রায় নিশ্চিতভাবেই জিলিন–১ থেকে এসেছে। প্রকাশিত ছবিগুলোর মান ইচ্ছাকৃতভাবে কমানো হয়েছে। অর্থাৎ, ‘মিলিটারি গ্রেড’ মানের আসল ছবিকে কমিয়ে বাণিজ্যিক মানে আনা হয়েছে, বা তারও নিচে নামানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো চীনের শত্রুদের কাছে স্যাটেলাইটের প্রকৃত ইমেজিং প্রযুক্তি, কাত হওয়ার ক্ষমতা এবং চালনাগত দক্ষতা গোপন রাখা।
কিন্তু জিলিন–১ ই কেন? কারণ, চ্যাং গুয়াং ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়াকে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক ব্রিফিংয়ে স্বীকার করে, চ্যাং গুয়াং ইয়েমেনের হুতিদের স্যাটেলাইট সহায়তা দিয়েছে। সেই ব্রিফিংয়ে বলা হয়, চীনকে এই সহযোগিতা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগাযোগও করেছে।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছিল, ‘আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, চ্যাং গুয়াং স্যাটেলাইট টেকনোলজি সরাসরি ইরান সমর্থিত হুতি সন্ত্রাসী হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে সহায়তা দিচ্ছে। আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনার পরও বেইজিংয়ের এই কোম্পানিকে সমর্থন দেওয়া প্রমাণ করে, শান্তির পক্ষে থাকার যে দাবি চীন করে তা ফাঁকা কথা। আমরা আমাদের অংশীদারদের আহ্বান জানাই যেন তারা চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা কোম্পানিগুলোকে তাদের কাজের ভিত্তিতে বিচার করে।’
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, ‘লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অগ্রাধিকার। বেইজিংয়ের ভবিষ্যতে চ্যাং গুয়াং স্যাটেলাইট টেকনোলজিকে সমর্থন দেওয়ার আগে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই হুতিদের মতো বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা মেনে নেবে না।’ ওয়াশিংটন এই সহযোগিতাকে অস্থিতিশীল হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে। বেইজিং একে একটি পরিবর্তিত বহুমেরু বিশ্বে সার্বভৌম অংশীদারত্ব হিসেবে বিবেচনা করেছে।
কেন ছবি প্রকাশ করা হলো?
পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমাবেশের ছবিগুলো প্রকাশের মাধ্যমে দুটি কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। প্রথমত, এমন এক যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রকাশ্যে এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্ভবত গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, এটি দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সেই প্রস্তুতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রায় প্রতিদিন নতুন ছবি প্রকাশের ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষ বাস্তবসময়ের কাছাকাছি সময়ে সামরিক মোতায়েন অনুসরণ করতে পেরেছে। ফলে জনপরিসরে বিতর্কও তীব্র হয়েছে, যদিও ওয়াশিংটন তার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে গেছে। আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চীনের ইরান-সমর্থনের বার্তা দেওয়া। চীন যে স্যাটেলাইটভিত্তিক ‘ইন্টেলিজেন্স, সারভেইলেন্স অ্যান্ড রিকোনেইস্যান্স’ সহায়তা ইরানকে দিচ্ছে, সে বিষয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল। তবে ইরান বা চীন কেউই তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।
যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, কাতারের আল–উদেইদ বিমানঘাঁটিতে নিক্ষিপ্ত ইরানের ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্রের বেশির ভাগই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তখন তেহরান সেই দাবি খণ্ডন করতে বোমা ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেনি। পরে একটি পশ্চিমা স্যাটেলাইট কোম্পানি এমন ছবি প্রকাশ করে, যা ওয়াশিংটনের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি ভিন্নভাবে ঘটতে পারে। স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশের মধ্যে যে বার্তা লুকিয়ে আছে, তা বুঝতে খুব বেশি বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। চীনের সিস্টেমগুলো মার্কিন থাড বা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারির অবস্থান অনুসরণ করতে পারে। তারা আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে বিমান মোতায়েন পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তারা সেনা সমাবেশও নজরে রাখে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই।
আধুনিক যুদ্ধে তথ্যের ওপর আধিপত্য যুদ্ধক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেয় প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার আগেই। চীন এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, সেই উচ্চস্থান থেকে পুরো বিষয়টি দেখার/নজর রাখার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
দ্য ক্রেডল থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান