হোম > নারী

মা হিসেবে কাউকে বেশি বা কম ভালোবাসা যায় না

ফারজানা রহমান

আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি। স্বামী বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। ঢাকায় আমি দুই সন্তান নিয়ে থাকি। সব দিক সামলে আসলে আমার সন্তানদের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারছি না। তাদের একজনের বয়স ৭ আর একজনের ৫ বছর। তাদের মধ্যে মাকে নিয়ে একধরনের প্রতিযোগিতা কাজ করে। এটা দিন দিন বাড়ছে। আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, কীভাবে সব ঠিক করব। কাজ করে ওদের সময় দিতে পারি খুব কম। তাদের দুজনেরই মনে হয়, আমি অন্যজনকে সময় বেশি দিচ্ছি। আমার জায়গাটা আসলে অন্য কেউ পূরণ করতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে কীভাবে দুজনের যত্নে ভারসাম্য রাখব? এই বয়সে ওদের মনে কোনো আঘাত দিতে চাই না, যেহেতু তাদের বাবাও এখানে থাকেন না। আমার পক্ষে চাকরিটাও ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আমি কী করতে পারি?

হুসনে আরা মিন্নি, ঢাকা

আপনার স্বামী প্রবাসী এবং আপনি একজন কর্মজীবী মা। আসলে পেশাগত জীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা একটু কষ্টকর। আমি কিন্তু আপনার সমস্যার মধ্যে দুটো ভালো দিক দেখতে পেলাম। একটি হলো আপনার দুটি সন্তানই আপনাকে চায়। আর মোবাইল ফোন বা অন্য কিছুর চেয়ে আপনি ওদের কাছে বেশি কাঙ্ক্ষিত।

নিশ্চয় আপনার শিশু দুটি স্কুলে যাচ্ছে। আপনি আপনার বড় সন্তানকে বলতে পারেন, ছোট সন্তানটিকে নিয়ে বাড়ির কাজগুলো সেরে ফেলতে। দুজনে যেন তাদের পছন্দসই কাজগুলো একসঙ্গে করে। শুধু তা-ই নয়, ওদের জানাবেন যে পৃথিবীতে আসার আগে ওরা দুজনেই একটি জায়গায় ছিল, সে জায়গাটা হলেন আপনি। কাজেই মা হিসেবে কাউকে বেশি বা কম ভালোবাসা যায় না।

আরেকটি বিষয় করে দেখতে পারেন, একজনের আড়ালে বলতে পারেন, তোমার ভাই বা বোন কিন্তু সব সময় তোমার প্রশংসা করে। সব সময় বলে ভালো জিনিসটা ওকেই দাও। সবচেয়ে বড় কথা, এখন যদি ওদের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সেটা ওদের জন্য জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হয়ে থাকবে। যত ব্যস্ততা থাকুক, আপনারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে পারেন। সবার দিন কেমন কাটল, সে ব্যাপারে কথা বলুন। ওদের একই সঙ্গে পড়াশোনার বা গল্পের বই পড়ান। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, গিটার শেখা, গান শেখা অথবা মার্শাল আর্টে যুক্ত করে দিতে পারেন।

আশা করি আপনার সমস্যার সমাধান হবে।