ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালা এলাকায় ১৯১৯ সালের ৩১ আগস্ট একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে অমৃতা প্রীতমের জন্ম। সাহিত্যের সব শাখায় সমানভাবে বিচরণ করলেও কবিতাই তাঁকে প্রতিষ্ঠা করেছে। ১১ বছর বয়সে মাকে হারিয়ে বাবার সঙ্গে লাহোরে চলে যান। দেশভাগের পর তিনি লাহোর থেকে ভারতে চলে আসেন। প্রথম কবিতা সংকলন ‘অমৃত তরঙ্গ’ প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। ১৯৪৩ সালের মধ্যে ছয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। পরে তিনি প্রগতিশীল লেখক আন্দোলন এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের দুর্গতি ও তাদের অধিকার নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি জোয়ার আসে তাঁর কলমেও। ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির তীব্র সমালোচনাকারী কাব্যগ্রন্থ ‘গণরোষ’।
১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর উপন্যাস ‘পিঞ্জর’। ২০০৩ সালে বলিউডে সেই উপন্যাস থেকে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদী। অমৃতা লিখেছেন কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস ও আত্মজীবনী। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক পেয়েছেন পাঞ্জাব রতন পুরস্কার। প্রথম নারী হিসেবে ১৯৫৬ সালে পেয়েছেন সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার। আরও পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ উপাধি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জবলপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী তাঁকে ডি-লিট ডিগ্রি দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে থেকেও অজস্র সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ৮৬ বছর বয়সে ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঘুমের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।