ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘সের্তানেজো’ সংগীত একটা সময় পুরোদস্তুর পুরুষদের হাতে বন্দী ছিল। সের্তানোজো সংগীতকে এই পুরুষতান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি দেন মারিলিয়া মেন্ডোন্সা। ১৯৯৫ সালের ২২ জুলাই ব্রাজিলের গোয়াস রাজ্যের রাজধানী গোইয়ানিয়ায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে গান লেখা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে নিজের সুর ও গানের কথায় তিনি সূচনা করেন এক নতুন ধারার; ইতিহাসে যা ‘ফেমিনেজো’ নামে পরিচিত। এটি নারীদের দিয়ে নারীদের জন্য তৈরি সংগীত বিপ্লব।
পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা ভাঙা প্রেমের ভিড়ে মারিলিয়াই প্রথম নারীদের সত্যিকারের আবেগ, ভাঙন ও আত্মমর্যাদার কথা শোনান।
তাঁর জনপ্রিয় গান ‘ইনফিয়েল’, এর অর্থ বিশ্বাসঘাতক। তাঁর ‘তোদোস ওস কানতোস’ অ্যালবামে প্রকাশ পায় প্রেমে প্রতারিত নারীর যন্ত্রণা, ভুল সম্পর্ককে না বলার সাহস এবং নারী সংহতির গুরুত্ব। প্রথাগত শারীরিক সৌন্দর্যের কৃত্রিম মানদণ্ডকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনের বাস্তব গল্প শেয়ার করতেন। তাঁর গানের মাধ্যমে লাখো তরুণীকে তিনি দিয়েছিলেন নিজের মতো করে বাঁচার অনুপ্রেরণা।
লাতিন গ্র্যামিজয়ী এই ‘কুইন অব সাফারিং’ মাত্র ২৬ বছর বয়সে, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
তবে মৃত্যুর আগে তিনি রেখে গেছেন এমন এক উজ্জ্বল পথ, যা আজও ব্রাজিলের অজস্র নারীকে স্বাধীনভাবে নিজেদের গল্প বলতে শেখায়। মারিলিয়া মেন্ডোন্সা শুধু একজন গায়িকা ছিলেন না, ছিলেন নারী স্বাধিকার ও আত্মবিশ্বাসের অমর প্রতীক।