সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি আন্তর্জাতিক শিকার ও অশ্বারোহী প্রদর্শনী—আদিহেক্সে (Adihex) একটি সাদা গিরফ্যালকন (Gyrfalcon) বিক্রি হয়েছে ১৫ লাখ দিরহামে। বাংলাদেশি মুদ্রায় বিরল এই বাজপাখিটির মূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, ‘আলট্রা-হোয়াইট’ বা তুষারসাদা এই খাঁটি গিরফ্যালকনটি যুক্তরাষ্ট্রের মার্ক মোগলিচ ফার্মে প্রজনন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমূল্যের শিকারি পাখি, বিশেষ করে তুষারসাদা আর্কটিক গিরফ্যালকন, পেরেগ্রিন ফ্যালকন, গির-পেরেগ্রিন সংকর এবং রুশ সাইবেরিয়ান গোশক প্রজননের জন্য পরিচিত।
পাখিটির ওজন প্রায় ১ কেজি এবং উচ্চতা ও প্রস্থ প্রায় ৪২ সেন্টিমিটার। খাঁটি গিরফ্যালকন সাধারণত সাদা পালক ও অসাধারণ শারীরিক সক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে মূল্যবান।
আদিহেক্স-এর আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমাইদ মাতার আল ধাহেরি বলেন, এই রেকর্ড মূল্যের বিক্রি আদিহেক্স নিলামের আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং আবুধাবির ফ্যালকন পালনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে অবস্থানকে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমিরাতি ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করছে।
এবারের প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি ৫৫টি শীর্ষস্থানীয় বাজপাখি প্রজনন খামার অংশ নিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে বাহরাইনের ফ্যালকনার সালমান আলবালুশি ২ কেজি ওজনের একটি খাঁটি গিরফ্যালকনের জন্য ২ লাখ ৫৫ হাজার দিরহাম দর হাঁকেন।
শিকার ধরার দক্ষতা, গতি, আকার, নির্ভুলতা এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতার কারণে গিরফ্যালকনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এসব পাখির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মর্যাদাও অনেক বেশি। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গিরফ্যালকন আঞ্চলিক শিকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, যেখানে বড় অঙ্কের পুরস্কার থাকে। ফলে এসব পাখির বাজারমূল্যও বেড়ে যায়।
উচ্চমানের শিকারি পাখি প্রজননে বহু বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত খামারে এগুলোর যত্ন নেওয়া হয়।