অনলাইন বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশাল গর্গ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এক নির্মম জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর পর এবার সেই গর্গই নিজের চাকরি হারিয়েছেন এবং আগের পদে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন। গত ৩ আগস্ট গর্গকে প্রতিষ্ঠানটির সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ড্যানিয়েল লুইস।
গর্গের অভিযোগ, লুইস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোম্পানির কৌশল পছন্দ করেন বলে দাবি করে এবং সেই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পরিচালনা পর্ষদের আস্থা অর্জন করে তাঁকে ‘ধোঁকা’ দিয়েছেন। হেজ ফান্ড ম্যানেজার লুইস ৬ মাস আগে গর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তখন তিনি খরচ কমানো এবং কোম্পানিকে লাভজনক করে তোলার বিষয়ে কিছু ধারণা দিয়েছিলেন।
গর্গকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি বলেন, ‘খরচ কমানোর বিষয়ে (লুইসের) চিন্তাগুলো ভালো ছিল। তবে উদ্ভাবন নিয়ে তাঁর ধারণাগুলো ভালো ছিল না। যখন দুজন এত কাছাকাছি অবস্থানে থাকেন, তখন কারও পক্ষে এসে বলা খুব সহজ যে, তিনি আরও ভালোভাবে কাজটি করতে পারতেন।’
গত ২৭ জুলাই লুইসকে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি অন্য পরিচালকদের গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দিতে রাজি করান। গর্গ বলেন, ‘আমার ধারণা, সে সব সময়ই সিইও হতে চেয়েছিল। পরিচালনা পর্ষদ ভুল করেছে।’
হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন গর্গ। তিনি নিজের পক্ষে লড়তে খ্যাতনামা আইনজীবী ও কুইন ইমানুয়েলের অংশীদার অ্যালেক্স সাপিরোকে নিয়োগ করেছেন। পরিচালনা পর্ষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গর্গ দাবি করেছেন, তাঁকে যেন আবার কোম্পানির সিইও হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।
গর্গ বলেন, ‘এটি স্বীকার করার বিষয় যে, আমি ১০ বছর ধরে এই কাজটি করে আসছি, তবে বাস্তবায়ন সব সময় নিখুঁত ছিল না। আমি আশা করি, বিষয়টির সমাধান হবে। আমি মনে করি, Better-এর ভবিষ্যৎ এখনো অত্যন্ত উজ্জ্বল।’
এর আগে, কোভিড মহামারি পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে গণছাঁটাইয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গর্গ বলেছিলেন, বাজারের দক্ষতা, কর্মদক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতাই কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাইয়ের মূল কারণ। সে সময় ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সংখ্যা ছিল প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ৯ শতাংশ। বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের মধ্যে কোম্পানির বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (Diversity, Equity and Inclusion বা DEI) বিভাগের পুরো টিমও ছিল।
সেই সময় গর্গ আরও প্রায় ২৫০ জন ছাঁটাই হওয়া কর্মীর বিরুদ্ধে অনলাইন বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি থেকে অর্থ চুরির অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ওই কর্মীরা নিজেদের কাজের সময় অতিরঞ্জিত করে দেখিয়ে কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন।