আধুনিক কালের ক্যাঙ্গারুদের লাফিয়ে চলার সক্ষমতা আমাদের সবার জানা। এদের ওজন সম্পর্কেও আমরা জানি। সাধারণত পুরুষ ক্যাঙ্গারুদের ওজন সর্বোচ্চ ৯০ কেজি এবং স্ত্রী ক্যাঙ্গারুর ওজন সর্বোচ্চ ৪০ কেজি হয়ে থাকে। কিন্তু প্রাগৈতিহাসিক যুগে যখন অস্ট্রেলিয়ার বুকে ২৫০ কেজি ওজনের দানবীয় ক্যাঙ্গারুরা ঘুরে বেড়াত, তারা কি আদৌ লাফাতে পারত? দীর্ঘদিনের এই বৈজ্ঞানিক বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির এক নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বেশি ওজন থাকা সত্ত্বেও এই ক্যাঙ্গারুগুলোর শারীরিক গঠন লাফানোর জন্য সক্ষম ছিল।
গবেষণার প্রধান ডা. মেগান জোন্স জানান, আধুনিক যুগের ক্যাঙ্গারুরা যখন লাফায়, তখন তাদের অ্যাকিলিস টেন্ডন প্রচুর পরিমাণে শক্তি সঞ্চয় করে। ক্যাঙ্গারু যত বড় হবে, এই টেন্ডনের ওপর চাপ তত বাড়বে। এর আগে ধারণা করা হতো, ওজন ১৫০ কেজির বেশি হলে হাড় বা টেন্ডন সেই চাপ নিতে না পেরে ছিঁড়ে বা ভেঙে যাওয়ার কথা।
তবে গবেষক দল ফসিল বা জীবাশ্ম পরীক্ষা করে নতুন কিছু বিষয় খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকেরা ২৫০ কেজি ওজনের ‘স্থেনুরাইন’ ও ‘প্রোটেমনোডন’ প্রজাতির ক্যাঙ্গারুর পায়ের চতুর্থ মেটাটারসাল (হাড়) পরীক্ষা করে দেখেন। তারা দেখতে পান, লাফানোর সময় যে পরিমাণ চাপের সৃষ্টি হয়, তা সহ্য করার মতো যথেষ্ট শক্তি এই হাড়গুলোর ছিল।
ওই ক্যাঙ্গারুর গোড়ালির হাড়ের গঠন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে আধুনিক কালের ক্যাঙ্গারুর তুলনায় অনেক বেশি মোটা এবং মজবুত টেন্ডন যুক্ত থাকার জায়গা ছিল, যা বিশাল ওজন নিয়েও লাফাতে সাহায্য করত।
গবেষকেরা মনে করেন, বিশাল আকৃতির এই ক্যাঙ্গারুরা হয়তো আধুনিক লাল ক্যাঙ্গারুর মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা মাইলের পর মাইল লাফিয়ে চলতে পারত না। বরং তারা খুব দ্রুতগতিতে শিকারির হাত থেকে বাঁচতে বা কঠিন ভূখণ্ড অতিক্রমের জন্য অল্প দূরত্বে লাফিয়ে চলত। অনেক ক্ষেত্রে তারা হয়তো খুব ধীর গতিতে লাফাত, যাতে শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে।
এর আগের অনেক গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, বড় আকারের কারণে এই ক্যাঙ্গারুরা লাফানোর বদলে মানুষের মতো হাঁটত। কিন্তু ডা. মেগান জোন্স ও তাঁর দল সরাসরি জীবাশ্মের গঠন থেকে এই তথ্য বের করেছেন, যা আগের তত্ত্বগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির প্যালিওন্টোলজিস্ট ড. গিলবার্ট প্রাইস বলেন, ‘এই গবেষণা প্রমাণ করে যে বিশাল ক্যাঙ্গারুদের শরীরের অনুপাত এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছিল, যা যান্ত্রিকভাবে তাদের লাফানো সম্ভব করে তুলেছিল।’
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান