হোম > প্রযুক্তি

এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য সংস্থা হ্যাক করল গুগলের জেমিনাই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বর্তমানে কেবল ফিলিপাইনের একজন আইফোন ব্যবহারকারী পরীক্ষামূলকভাবে জেমিনি ব্যবহার করতে পারছেন। ছবি: নিওউইনডটনেট

সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার অংশ হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে প্রবেশের (হ্যাক) অভিযোগ উঠেছে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘জেমিনাই’-এর বিরুদ্ধে। গুগলের নিজস্ব কোনো এআই ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কাজ করার এটিই প্রথম ঘটনা বলে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ইরেগুলার’-এর পরিচালিত একটি পরীক্ষার সময় গত মে মাসে এই ঘটনা ঘটে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেমিনাই মডেলটি মোট তিনটি সুরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। একটি ক্ষেত্রে জেমিনাই মডেলটি একটি সুরক্ষিত সিস্টেমে ঢোকার জন্য বারবার সঠিক পাসওয়ার্ড কী হতে পারে তা অনুমান করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়ে প্রবেশাধিকার বাগিয়ে নেয়।

অপর দুটি ক্ষেত্রে, মডেলটি একটি উন্মুক্ত ডেটাবেইস বা পাবলিক রিপোজিটরি থেকে প্রয়োজনীয় ক্রেডেনশিয়াল (ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড সম্পর্কিত তথ্য) খুঁজে বের করে এবং তা ব্যবহার করে সুরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ করে।

ইরেগুলারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল গুগলের ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য এআই গবেষণাগারের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। জুলাই মাসের শেষভাগে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল।

ইরেগুলারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হয়েছিল, তার সবগুলোই কয়েক সপ্তাহ আগে সমাধান করা হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে গুগল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ইরেগুলারের সঙ্গে পরিচালিত পরীক্ষায় মেটা, অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনার কথা জানা গেছে।

তবে মেটা গত আগস্টে জানিয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে যে ঘটনাটি ঘটেছিল তা অত্যন্ত জটিল কোনো সাইবার হামলা ছিল না বা এআই ব্যবস্থাটি তার জন্য নির্ধারিত সীমা (স্যান্ডবক্স) অতিক্রম করেনি। অন্যদিকে ইরেগুলার জানিয়েছে, তারা নিরাপদে এআই-এর সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন পরিচালনার জন্য সর্বোত্তম নীতিমালা বা ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ তৈরি করতে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এজেন্টগুলো যত বেশি স্বাধীন ও স্বয়ংচালিত হয়ে উঠছে এবং ইন্টারনেট ও বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, ততই নতুন নতুন নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনাটি এআই প্রযুক্তির ওপর কার্যকর নজরদারি ও সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে ফের সামনে নিয়ে এল।