হোম > প্রযুক্তি

বোনাসে বিপুল ব্যবধান নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত স্যামসাংয়ের কর্মীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস-এ সেমিকন্ডাক্টর ও স্মার্টফোন বিভাগে কর্মীদের বোনাসের বিশাল ব্যবধানকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও বিভাজন বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত চিপের চাহিদা বাড়ায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের মুনাফা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিপরীতে স্মার্টফোন বিভাগ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পরিচালন লোকসানের মুখে পড়েছে।

ফলে এ বছর সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের কর্মীদের বার্ষিক বোনাস স্মার্টফোন ও গৃহস্থালি পণ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি হতে যাচ্ছে। এই বৈষম্যকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স (ডিএক্স) বিভাগের কর্মীরা।

ডিএক্স বিভাগের একটি শ্রমিক ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বোনাসে ১০০ গুণ ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং এতে কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত দুই মাসে এই ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ হাজার থেকে বেড়ে ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার ‘নিক্কেই এশিয়া’ জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ২২৩ গুণ বেড়ে ৮৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওনে দাঁড়িয়েছে। তবে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্মার্টফোন বিভাগের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে এবং বিভাগটি লোকসানে পড়েছে।

কর্মীদের ক্ষোভের আরেকটি কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০২৩ সালে চিপ ব্যবসা লোকসানে থাকলেও স্মার্টফোন বিভাগের আয় পুরো কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে ইউনিয়ন নেতারা দাবি করছেন।

স্যামসাং চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং সম্প্রতি কর্মী ও ইউনিয়ন সদস্যদের ‘এক পরিবার’ হিসেবে অভিহিত করে ঐক্যের আহ্বান জানান। তবে কোম্পানির কঠোর কর্মদক্ষতাভিত্তিক পুরস্কারনীতি এখন প্রতিষ্ঠানটির দুই প্রধান বিভাগের মধ্যে নতুন ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করেছে।