নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যাস, ধূলিকণাসহ আমরা যেসব বস্তু দেখতে পাই, তা পুরো মহাজগতের মোট ভর ও শক্তির মাত্র ৫ শতাংশ। এর বাকি অংশজুড়ে রয়েছে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি। এর প্রকৃতি এখনো অনেকটাই অজানা। এই অজানাকে ভেদ করতে, সেখানে কী আছে, তার উত্তর খুঁজতে ৩০ আগস্ট নাসা একটি টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে। তাদের পরবর্তী প্রজন্মের এই টেলিস্কোপের নাম দেওয়া হয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এই ঐতিহাসিক মিশনে অন্যতম নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় রয়েছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামিয়া আশরাফ মওলা। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ওয়েলেসলি কলেজে হুইটিন অবজারভেটরিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন।
নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং হাবল স্পেস টেলিস্কোপের জননী হিসেবে পরিচিত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নাম অনুসারে এই টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে। এর দৃশ্যমান এলাকা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের চেয়ে কমপক্ষে ১০০ গুণ বড়। উন্নত প্রযুক্তির বদৌলতে হাবলের সমপরিমাণ আকারের হলেও এর ওজন হাবলের চেয়ে চার ভাগের এক ভাগ কম। রোমান স্পেস টেলিস্কোপের মূল আয়নাটির ওজন মাত্র ১৮৬ কেজি। পুরো কর্মকালে এটি সম্ভাব্য ১০০ কোটি কিংবা ১ বিলিয়ন গ্যালাক্সি তথা ছায়াপথ থেকে আসা আলো মেপে বিশ্লেষণ করতে পারবে। নক্ষত্রের উজ্জ্বল আলো আড়াল করে এটি সরাসরি সৌরজগতের বাইরের গ্রহ
এবং গ্রহ তৈরির মহাজাগতিক ডিস্ক দেখতে সক্ষম হবে। আমাদের গ্যালাক্সিতে থাকা গ্রহ ব্যবস্থাগুলোর ওপর একটি সম্পূর্ণ পরিসংখ্যানমূলক জরিপ চালাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের তিনটি মূল ক্ষেত্র ডার্ক এনার্জি, বাইরের গ্রহ এবং ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোফিজিকস কিংবা অবলোহিত জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল আর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার কাজ করবে টেলিস্কোপ।
ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে সূর্যের বিপরীত দিকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করবে। নক্ষত্রের তীব্র আলো আড়াল করে তার চারপাশের ঝাপসা অথবা ছোট ছোট বস্তু পর্যবেক্ষণ করবে এই টেলিস্কোপ। বর্তমানে মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে টেলিস্কোপটির মূল নির্মাণকাজ এবং পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: নাসা