হোম > প্রযুক্তি

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘কেজ ফাইটে’ রোবটের মুখোমুখি হলো মানুষ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে প্রথমবারের মতো মানুষের সঙ্গে হিউম্যানয়েড (মানবসদৃশ) রোবটের লড়াইয়ের এক বিরল ও অদ্ভুত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোবটিকস কোম্পানি আরইকের আয়োজনে এই ‘কেজ ফাইটে’ (খাঁচার ভেতরে লড়াই) ছয় ফুট লম্বা একটি রোবটের মুখোমুখি হন জনপ্রিয় মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফ্র্যাঙ্কি লাপেনা।

সংস্থাটি মূলত একটি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি কমব্যাট গেম নিয়ে কাজ করছে, যেখানে মানুষ দূর থেকে হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ন্ত্রণ করে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

সায়েন্স ফিকশন সিনেমার যুদ্ধক্ষেত্রের মেশিনের আদলে তৈরি রোবটটিকে রিঙে লড়াই শুরুর আগে ওয়ার্ম-আপ করতে দেখা যায়। লড়াই শুরু হলে ফ্র্যাঙ্কি লাপেনা রোবটটিকে বেশ কয়েকটি ঘুষি দেন। জবাবে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত রোবটটিও চড়াও হয়ে একের পর এক ঘুষি ও শক্তিশালী লাথি দিতে থাকে। রোবটের লাথির আঘাতে বেশ কয়েকবার রিংয়ের অন্য দিকে আছড়ে পড়েন লাপেনা।

আরইকে এই লড়াইকে তাদের প্রথম ‘মানুষ বনাম টার্মিনেটর রোবট যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে তারা লিখেছে, ‘আমরা মানুষ বনাম টার্মিনেটর রোবট যুদ্ধের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি করলাম। ফ্র্যাঙ্কি লাপেনা তাঁর সর্বোচ্চটা দিয়েছেন।’ খুব শিগগির এই লড়াইয়ের আরও কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আরইকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পেশাদার কমব্যাট স্পোর্টসে মানুষ বনাম রোবটের লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘একজন পেশাদার ফাইটার এই রোবটের বিরুদ্ধে কেমন করবে, তা দেখতে চাই। আমার মনে হয়, তারা অনেক ভালো করতে পারবে।’ অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই উন্মাদনার যুগে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মানুষ আর রোবটের যুদ্ধ আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউএফসির অংশ হয়ে উঠবে।’

বাস্তব জীবনে হিউম্যানয়েড রোবটের এমন আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া এবারই প্রথম নয়। এর আগে কিছুদিন আগে রাশিয়ায় একটি ইলেকট্রনিকসের দোকানে এক গ্রাহক হিউম্যানয়েড রোবটকে ধাক্কা দিলে রোবটটি ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা লাথি মারার চেষ্টা করে। পরে দোকানের কর্মীরা এসে সেটির বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে দেন। সেই ঘটনাও কাল্পনিক ‘টার্মিনেটর’ চলচ্চিত্রের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।