স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য দুই দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ এখন আর স্বপ্ন নয়। ওয়ানপ্লাস, অনার এবং শাওমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যাটারি প্রযুক্তির এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যেখানে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার (mAh) ব্যাটারি খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো উন্নত বাজারগুলো।
আগামী ৭ মে ভারতের বাজারে আসছে ওয়ানপ্লাস ‘নর্ড সিই ৬’। এই ফোনের স্পেসিফিকেশন দেখে উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের চোখ কপালে ওঠার দশা। দাম মাত্র ৩০০ ডলারের (প্রায় ৩৫ হাজার টাকা) নিচে এই ফোনের ‘লাইট’ সংস্করণেই থাকছে ৭ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি এবং ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট।
তবে আসল চমক হলো ওয়ানপ্লাস ‘নর্ড ৬’। ভারতের বাজারে এটি ৯ হাজার এমএএইচ-এর সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি এবং ৮০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা নিয়ে আসছে, যার দাম পড়বে মাত্র ৩৯০ ডলারের (প্রায় ৪৬ হাজার টাকা) কাছাকাছি। এর পাশাপাশি ওয়ানপ্লাস ৮ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি সমৃদ্ধ একটি বিশেষ ‘টার্বো’ গেমিং ভেরিয়েন্ট আনারও ঘোষণা দিয়েছে।
কেন বঞ্চিত আমেরিকানরা?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন স্মার্টফোন বাজার এখন কার্যত ‘ডুওপলি’ বা দুই প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া দখলে চলে গেছে। দেশটিতে অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের দাপট এতটাই বেশি যে, ওয়ানপ্লাস আগামী মের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
ক্যারিয়ার বা মোবাইল অপারেটররা এমন কোনো ফোন গ্রাহকদের দিতে চায় না যা আইফোনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। ফলে অধিকাংশ মার্কিন গ্রাহক ব্র্যান্ড লয়্যালটি এবং ট্রেড-ইন ডিলের জালে এমনভাবে আটকে গেছেন যে ওয়ানপ্লাসের মতো উদ্ভাবনী ফোনগুলো তাদের নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
একচেটিয়া বাজারের মাশুল
বাজার যখন প্রতিযোগিতামূলক হয়, তখন কোম্পানিগুলো নতুন কিছু করতে বাধ্য হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সেই প্রতিযোগিতার অভাব স্পষ্ট। চলতি বছরও স্যামসাংয়ের বেস মডেল গ্যালাক্সি এস২৬ মাত্র ২৫ ওয়াট চার্জিং দিচ্ছে, যা ভারতীয় বাজারের ৩ গুণ কম দামি ফোনের চেয়েও অনেক পিছিয়ে।
প্রিমিয়াম ফোন গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা-তে মাত্র ৫ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি এবং ৬০ ওয়াট চার্জিং দেওয়া হচ্ছে। অথচ এর অর্ধেকেরও কম দামে ওয়ানপ্লাস দিচ্ছে ৯ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি।
অ্যাপলের আইফোন ১৭ সিরিজও ব্যাটারির ক্ষেত্রে কোনো বড় ঝুঁকি না নিয়ে ‘সেফ জোন’-এ খেলছে। শীর্ষস্থানীয়দের যখন চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ থাকে না, তখন তারা উদ্ভাবনের চেয়ে স্থিতাবস্থাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
অবশ্য সবাইকে ৯ হাজার এমএএইচ ব্যাটারির ফোন ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। কিন্তু পছন্দের স্বাধীনতা না থাকাটাই উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে আমেরিকান ক্রেতারা ফ্ল্যাগশিপ বা সর্বোচ্চ দাম দিয়ে এমন হার্ডওয়্যার কিনছেন যা বিদেশের ৩০০ ডলারের মিড-রেঞ্জ ফোনের কাছে নস্যি!