হোম > প্রযুক্তি

মহাকাশচারীদের জীবন বাঁচাচ্ছে ৩০০ বছরের পুরোনো সেক্সট্যান্ট

ফিচার ডেস্ক

ভাবুন তো, আপনি মঙ্গলের উদ্দেশে ভেসে যাচ্ছেন অসীম মহাশূন্যে। হঠাৎ এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মহাকাশযানের সব ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক নেভিগেশন বিকল হয়ে গেল। পৃথিবীর সঙ্গেও বিচ্ছিন্ন রেডিও যোগাযোগ। অন্তহীন অন্ধকারের বুক চিরে কীভাবে আবার ফিরে আসবেন প্রিয় গ্রহে? এ ধরনের চরম বিপদে আধুনিক এআই বা ডিজিটাল প্রযুক্তি সাহায্য করবে—এমন উত্তরই বেছে নেবেন আপনি। কিন্তু কথায় আছে, ওল্ড ইজ গোল্ড। তেমনই নাসার নভোচারীদের জীবন বাঁচাতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এক অ্যানালগ যন্ত্র। নাম তার সেক্সট্যান্ট। ১৭ শতকে সমুদ্রের বুকে নাবিকেরা তারা দেখে দিক নির্ণয়ের জন্য এটি ব্যবহার করতেন। মহাকাশে সেই পুরোনো যন্ত্রই এখন নভোচারীদের শেষ ভরসা।

মহাকাশে এর সফলতার ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৬৬ সালে জেমিনি ১২-এর রাডার নষ্ট হলে নভোচারী বাজ অলড্রিন সেক্সট্যান্ট ব্যবহার করে পথ খুঁজে নেন। এরপর ১৯৭০ সালে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর জিম লাভেল খালি চোখে এই যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করে অ্যাপোলো ১৩ মহাকাশযানকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ম্যানুয়াল সেক্সট্যান্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, জিরো গ্র্যাভিটিতেও এটি অত্যন্ত নিখুঁত হিসাব দেয়। ওরিয়ন স্পেসক্রাফটে আধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক অপটিক্যাল নেভিগেশন ব্যাকআপ হিসেবে থাকে।

তবে এটি ব্যর্থ হলে নভোচারীরা হাত দিয়ে চালানো সেক্সট্যান্ট ব্যবহার করবেন। যন্ত্রটির কোণগুলো গোল করে এবং দেয়ালে আটকে রাখার ফাস্টেনার যুক্ত করে এটিকে মহাকাশে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। এমনকি সেক্সট্যান্ট না থাকলেও কোনো তারা চাঁদ বা পৃথিবীর পেছনে কখন অদৃশ্য হচ্ছে, সেই সময় মেপে নভোচারীরা অবস্থান বের করতে পারেন। মঙ্গলের পথে চলাচল করার জন্য নির্দিষ্ট গ্রহাণু ও জেমিনি বা মিথুন রাশিচক্রের তারা দেখে পথ চেনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে নভোচারীদের।

নাসার ওরিয়ন স্পেসক্রাফট এবং আর্টেমিস মিশনের নেভিগেশন ম্যানেজার গ্রেগ হোল্ট বিবিসিকে জানান, পৃথিবী থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা তত কমে। তাই প্রাচীন এই তারা দেখা বা স্টার সাইটিং কৌশলই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান। কাঠের তৈরি প্রাচীন সরঞ্জাম হোক বা আধুনিক নক্ষত্র মাপার ক্যামেরা, মহাশূন্যে দিক বের করার মৌলিক নিয়মটি ৩০০ বছর ধরে একই রয়ে গেছে। এখনো নক্ষত্র দেখা, জ্যামিতিক হিসাব মেলানো এবং নিরাপদে ঘরে ফেরা—এই বৃত্তেই কাজ চলে যায়।

সূত্র: বিবিসি