মোবাইল অপারেটর এয়ারটেল নতুন পরিচয়ে ‘সার্কেল’ নামে যাত্রা শুরু করছে। তবে নাম পাল্টালেও গ্রাহকদের বর্তমান মোবাইল নম্বর, সার্ভিস, প্যাকেজ, ব্যালেন্স কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় (এমএফএস) কোনো পরিবর্তন আসবে না।
আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ব্র্যান্ড ‘সার্কেল’ উন্মোচন করে রবি আজিয়াটা পিএলসি।
রবি জানিয়েছে, নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ১৬ বছরের আস্থা, সম্পৃক্ততা ও অর্থবহ গ্রাহক সংযোগের যাত্রা নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই বিবর্তন ব্র্যান্ডের, গ্রাহকদের সঙ্গে অপারেটরের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসছে না। এয়ারটেলের সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কেলের গ্রাহকে পরিণত হবেন। তাঁদের বিদ্যমান ০১৬ নম্বর, সেবা, প্যাকেজ ও ব্যালান্স আগের মতোই বহাল ও সচল থাকবে।
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ওয়ালেট, লেনদেন ও গ্রাহকের তথ্যেও কোনো পরিবর্তন হবে না। এগুলো নিরাপদ ও পূর্ণাঙ্গভাবে সচল থাকবে। এয়ারটেলের তরুণ প্রজন্ম কেন্দ্রিক ঐতিহ্যের শক্তিকে ভিত্তি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যৎমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধার অঙ্গীকার নিয়ে আসছে সার্কেল। যা আরও সাশ্রয়ী, আধুনিক ও ডিজিটালনির্ভর সেবা দেবে গ্রাহকদের।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিবর্তিত ডিজিটাল বাস্তবতা এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান সংযুক্ত জীবনধারার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে ‘সার্কেল’। এতে এয়ারটেলের তারুণ্য কেন্দ্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও উন্নত ডিজিটাল সক্ষমতা, পরিবর্তিত সেবা এবং ভবিষ্যৎমুখী নানা উদ্যোগ।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বের মানুষের মাঝে আন্তসংযোগ ক্রমেই বাড়ছে। মানুষের বদলে যাওয়া এই যোগাযোগের ধরনকে বিবেচনায় রেখেই নতুন ব্র্যান্ডটি তৈরি করা হয়েছে। নতুন ব্র্যান্ডটির মূল ভাবনা একটি সহজ বিশ্বাসকে ঘিরে। তা হচ্ছে-‘বাস্তব সংযোগই আমাদের আত্মপরিচয় গড়ে তোলে এবং আমাদের সত্যিকারের আপনজনদের খুঁজে পেতে সহায়তা করে।’ মানুষকে তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত রেখে অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করাই সার্কেল-এর লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, ‘১৬ বছর ধরে এয়ারটেল বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। সার্কেল সেই যাত্রারই পরবর্তী ধাপ। ব্র্যান্ডের নাম বদলালেও আমাদের মূল প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকবে। সংযোগের ক্ষেত্রে যখন আমরা নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছি, তখন শুধু আরও বেশি মানুষকে যুক্ত করাই আর মূল বিষয় নয়; বরং সেই সংযোগগুলোকে আরও অর্থবহ করে তোলাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ‘সার্কেল’ এয়ারটেলের সেই যাত্রার পরবর্তী বিবর্তন। এই নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এয়ারটেলের স্বতন্ত্র অবস্থানকে এগিয়ে নিতে পেরে আমরা গর্বিত।’
‘সার্কেল’র ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি হচ্ছে-‘আসল সংযোগ, সব সময় সচল।’ এই প্রতিশ্রুতি তরুণদের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বিনোদন ও গেমিং থেকে শুরু করে কনটেন্ট তৈরি এবং প্রতিদিন তরুণেরা যেসব ডিজিটাল পরিসরে যুক্ত থাকেন, সেসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সংযোগ ও সমৃদ্ধ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ব্র্যান্ডটির।
প্রসঙ্গত, আবু ধাবি গ্রুপের মালিকানায় ২০০৭ সালের বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ওয়ারিদ। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় এয়ারটেল শেয়ার কিনে একে এয়ারটেল নামে রূপান্তর করে। এরপর ২০১৬ সালে রবি এবং এয়ারটেল বাংলাদেশ এক হয়ে যায় (মার্জার)। এর মাধ্যমে রবি দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করে।