বিগ-টেক কোম্পানিগুলোর বিলিয়ন ডলারের এআই বিনিয়োগ প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই দৌড়ে কার পাল্লা ভারী—এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। এই উন্মাদনায় চিপ ও প্রযুক্তি জুগিয়ে জ্বালানি দিচ্ছে এনভিডিয়া। আর সরাসরি ডেটাসেন্টারের অর্থ অপচয় না করে অ্যাপল ব্যবহারকারীর হাতে মূল প্রযুক্তি পৌঁছে দিচ্ছে। বিশ্ব শেয়ারবাজারে এখন সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানের মুকুট নিয়ে অ্যাপল ও এনভিডিয়ার টানাপোড়েন এই মৌলিক প্রশ্নেরই ফল। গবেষক এবং বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লড়াই মূলত প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণ বনাম প্রযুক্তির ব্যবহার ও মুনাফায়নের মধ্যবর্তী দ্বন্দ্ব।
এনভিডিয়া বর্তমানে এআই-বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। তারা ডেটাসেন্টারের প্রয়োজনীয় প্রসেসর বাজারের প্রায় ৮১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু এই অভাবনীয় সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনিশ্চয়তা। এনভিডিয়ার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে বিগ-টেক কোম্পানিগুলো ডেটাসেন্টারে এই অঢেল অর্থ কত দিন ঢালবে, তার ওপর। এ ছাড়া বিভিন্ন এআই স্টার্টআপে এনভিডিয়ার অর্থ বিনিয়োগ এবং সেই স্টার্টআপগুলোর মাধ্যমে এনভিডিয়ার চিপ কেনার যে চক্র তৈরি হয়েছে, সেটি দীর্ঘ মেয়াদে কতটা টেকসই তা নিয়ে রয়ে গেছে বড় সংশয়। বিশেষজ্ঞ জো টিগের ভাষায়, এনভিডিয়া মূলত বিক্রয় করছে ইঞ্জিনের মূল শক্তি বা হর্সপাওয়ার।
অ্যাপল বিশাল ডেটাসেন্টার তৈরিতে কোটি কোটি ডলার নষ্ট করছে না। তাদের শক্তি হলো আইফোন ও ম্যাকের মতো বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ব্যবহারকারীর শক্ত ভিত্তি। নিজস্ব এআই মডেলে পিছিয়ে থাকলেও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে তারা আইফোনে সেরা এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। তবে ডেটাসেন্টার নির্মাণ করার কারণে বিশ্বব্যাপী মেমরি চিপের মারাত্মক সংকট দেখা দেওয়ায় অ্যাপলকে তাদের পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। টিগের মতে, অ্যাপল বিক্রি করছে গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল। এটি ছাড়া ব্যবহারকারী কখনোই ওই ইঞ্জিনের শক্তি উপভোগ করতে পারবে না।
বর্তমান সময়ে বিশ্ব নতুন এআই প্রযুক্তি তৈরির ধাপে রয়েছে। তাই এনভিডিয়ার কদর ও বাজারমূল্য বেশি। কিন্তু যখন প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের অংশ হয়ে উঠবে, তখন এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রটি যারা নিয়ন্ত্রণ করবে, তারাই দীর্ঘ মেয়াদে আসল মুনাফা ঘরে তুলতে পারবে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে অ্যাপল।
সূত্র: সিএনএন