উন্নত প্রযুক্তি আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দখলের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীতল যুদ্ধ আবারও এক নতুন মোড় নিয়েছে। মানব আকৃতির রোবট রপ্তানিকারক সবচেয়ে বড় দেশ চীন এবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ধাক্কা খেয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন চীনসহ বিদেশি নির্মাতাদের নতুন মানবাকৃতি এবং চার পায়ের রোবট আমদানিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন এবং হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা প্যানেলের ধারণা, ইন্টারনেট-সংযুক্ত এই রোবটগুলো মার্কিনদের ডেটা চুরি, সাইবার হামলা ও নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। রোবটের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি এবং পাওয়ার গ্রিডে ব্যবহৃত চীনা পাওয়ার কনভারটার আমদানিতেও একই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনা হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে চরম অর্থনৈতিক রাজনীতি।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে ৯০ শতাংশ রোবট সরবরাহ করে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চের মতে, চীন যখন একের পর এক রোবটের আইপিও আনছে, সেই সময় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে টেসলা, ফিগার এআই এবং বোস্টন ডায়নামিকসের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার দখলের একচ্ছত্র সুযোগ করে দেওয়া হলো।
চীনে ১৪০টির বেশি রোবট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত কয়েক মাসে তাদের সর্বাধুনিক এআই মডেল এবং শক্তিশালী রোবোটিক হার্ডওয়্যার আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করেছে।
নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা চীনের যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একে ‘একতরফা গুন্ডামি’ ও ‘বাজারের বিকৃতি’ বলে অভিহিত করেছে। এমনকি মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিলে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বজুড়ে চীনা রোবটের যে বিকল্পহীন চাহিদা তৈরি হয়েছে, তাতে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারের ওপর ভর করে চীন এই ধাক্কা সহজে সামলে নেবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান বিশ্বরাজনীতি এখন শুধু পণ্য বাণিজ্যে আটকে নেই। এটি সরাসরি মানবাকৃতির রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখলদারির লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন