অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) কারবারে ব্যবহৃত হাজার হাজার সিম শনাক্তের পর চার মোবাইল ফোন অপারেটরকে জরিমানা করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)। তবে শুধু জরিমানাকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটি বলছে, কেবল প্রশাসনিক জরিমানা করে এত বড় অনিয়মের দায় এড়ানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতি ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে ফৌজদারি তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সম্প্রতি অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে ৮ হাজার ৬৮২টি সিম ব্যবহারের অভিযোগে চারটি মোবাইল অপারেটরকে মোট ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের অবস্থান ও গভীর উদ্বেগের কথা জানায় গ্রাহক অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনটি।
সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বিবৃতিতে বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক সিম যদি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে এটি কেবল লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের রাজস্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং টেলিযোগাযোগ খাতের সুশাসনের জন্যও একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। শুধুমাত্র প্রশাসনিক জরিমানা দিয়ে এত বড় অনিয়মের দায় শেষ হতে পারে না।’
বিবৃতিতে অবৈধ ভিওআইপি কারবারের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়।
১. অবৈধ ভিওআইপির সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তি, চক্র ও সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনে ফৌজদারি মামলা করা।
২. অবৈধ আন্তর্জাতিক কলের কারণে রাষ্ট্রের প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া।
৩. বিটিআরসি, এনটিএমসি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে একটি স্বাধীন যৌথ তদন্ত সেল গঠন করা।
৪. ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মোবাইল অপারেটরগুলোর প্রযুক্তিগত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রক তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।
অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে একই ধরনের অপরাধ বারবার সংঘটিত হবে, যার খেসারত দিতে হবে সাধারণ গ্রাহক ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে।