হোম > প্রযুক্তি

কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটিকে ‘কম মানবিক’ করছে ওপেনএআই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: বিবিসি

কিশোর-কিশোরীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির ব্যবহার আরও নিরাপদ করতে নতুন বেশ কিছু ফিচার চালু করছে ওপেনএআই। নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্টে চ্যাটজিপিটির মানবসদৃশ আচরণ কমিয়ে আনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে।

নতুন টিন-অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরা চাইলে চ্যাটজিপিটির মানবসদৃশ কণ্ঠস্বর বন্ধ করে দিতে পারবেন। এর উদ্দেশ্য হলো, প্রযুক্তিটি যেন মানুষের মতো মনে না হয় এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে এটি জীবন্ত বা সচেতন কোনো সত্তা—এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমানো।

এ ছাড়া কিশোরদের নিয়মিত বিরতি নেওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেবে চ্যাটজিপিটি। নির্দিষ্ট সময় পর ব্যবহারকারীকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে যে এটি একটি এআই এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই—‘এটি অপেক্ষা করতে পারে’।

তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, শিশুদের কেউ চ্যাটজিপিটিকে জীবন্ত মনে করছে—এমন নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও এআইকে সচেতন বা অনুভূতিসম্পন্ন সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নতুন ব্যবস্থায় কিশোরদের জন্য ‘স্টাডি মোড’ ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের সুযোগও থাকবে। পাশাপাশি ‘কোয়ায়েট টাইম’ চালু করে নির্দিষ্ট সময়ে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার বন্ধ রাখা যাবে। ওপেনএআইয়ের দাবি, তরুণ ব্যবহারকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই পড়াশোনার কাজে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে।

কিশোরদের জন্য অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মডেলও অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। যারা সাইনআপের সময় নিজেদের কিশোর হিসেবে শনাক্ত করবে, তাদের জন্য টিন অ্যাকাউন্ট ডিফল্ট হিসেবে চালু হবে। ওপেনএআই নিজস্ব পদ্ধতিতে কাউকে ১৮ বছরের কম বয়সী শনাক্ত করলেও একই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে কীভাবে বয়স শনাক্ত করা হবে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। ১৩ বছরের কম বয়সীদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের অনুমতি নেই।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় খাওয়াদাওয়া-সংক্রান্ত মানসিক সমস্যার বিষয়বস্তুও নজরদারির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এই ধরনের ক্ষতিকর অনুরোধ শনাক্ত হলে অভিভাবকের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। ওপেনএআই জানিয়েছে, সতর্কবার্তা পাঠানোর আগে প্রতিটি ঘটনা একজন মানুষ পর্যালোচনা করবেন এবং সম্ভব হলে এক ঘণ্টার মধ্যে অভিভাবককে জানানো হবে।

এদিকে এআই ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগও বাড়ছে। গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালের চিকিৎসক ও এআই গবেষক ড. সুসান শেলমারডিন সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে চিকিৎসকেরা হয়তো রোগীদের এআই ব্যবহারের মাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইবেন, যেমন বর্তমানে ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস সম্পর্কে জানতে চান।

তিনি এআই থেকে পাওয়া তথ্যকে ‘আলট্রা-প্রসেসড’ তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতিরিক্ত এআই নির্ভরতা ভবিষ্যতে মানুষের চিন্তাভাবনাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।