হোম > প্রযুক্তি

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা। গতকাল মঙ্গলবার এই ভোট গ্রহণের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য এমন বয়সসীমা নির্ধারণ করল ফ্রান্স।

গত বছরের শেষের দিকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়া। গত মাসে যুক্তরাজ্য সরকারও একই ধরনের বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্পেন, গ্রিস ও ডেনমার্কও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে।

ফরাসি আইনপ্রণেতারা বিপুল সমর্থনে বিলটি পাস করেন। বিলটির জোরালো সমর্থক ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। এখন তিনি এতে স্বাক্ষর করে এটিকে আইনে পরিণত করবেন।

ভোটের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাখোঁ আইনপ্রণেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হবে।’

এর আগে জানুয়ারিতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সন্তানদের ও কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়। আমাদের সন্তানদের আবেগ-অনুভূতি বিক্রি বা নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়; কোনো মার্কিন প্ল্যাটফর্ম কিংবা চীনা অ্যালগরিদম, কারও দ্বারাই তা হতে দেওয়া হবে না।’

আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যাতে আইনটি কার্যকর করা যায়, সে জন্য সরকারকে দ্রুততার সঙ্গে সংসদে বিলটি পাস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মাখোঁ।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অস্ট্রেলিয়ায় কোম্পানিগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা যাতে যাতে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে বা পুরোনো অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে না পারে, সে জন্য কোম্পানিগুলোকে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফরাসি সরকারও জানিয়েছে, আইন বাস্তবায়নে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে।

আইনের আগের খসড়াগুলোতে শিশুদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বিশেষ করে ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে ‘১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য’ এমন সতর্কবার্তা প্রদর্শনের কথাও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিলে এই পরিকল্পনাগুলো রাখা হয়নি।

নতুন এই আইনটি কার্যকর করার দায়িত্বে থাকবে ফ্রান্সের অডিওভিজ্যুয়াল ও ডিজিটাল কমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘আরকম’ (Arcom)। দেশের বড় সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের ওপর এটি প্রযোজ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরকমের তথ্যমতে, ফ্রান্সে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরা টিকটকে দিনে গড়ে ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট সময় কাটায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটির কনটেন্ট সুপারিশের অ্যালগরিদম তুলনামূলক ‘চরমপন্থী’ ভিডিওগুলোকে বেশি সামনে নিয়ে আসে। ফলে কিশোর-কিশোরীরা প্রতিনিয়ত উদ্বেগজনক ও ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে আসছে।

অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা ইতিমধ্যেই শিশুদের কিছু ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

অনলাইনে প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষেত্রে এটি ফ্রান্সের প্রথম পদক্ষেপ নয়। ২০২৫ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনলাইন পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করার আইন কার্যকর হয়। ওই আইনের আওতায় ব্যবহারকারীদের বয়সের প্রমাণ দিতে হয়।

তবে যেসব দেশ বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে, তাদের জন্য কার্যকরভাবে বয়স যাচাই নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।

গত জানুয়ারিতে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জফ্রে আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপই যথেষ্ট নয়। আমরা কেবল বিধিনিষেধ দিয়ে থেমে থাকতে পারি না, আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগের বিকল্প উপায় প্রস্তাব করতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সের প্রতিনিধি কাটিয়া রু সিএনএনকে একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিতর্ক যৌক্তিক। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ করতে শুধু এই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তন আনলেই কেবল সব ব্যবহারকারীকে প্রকৃতভাবে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। প্রথমেই এসব প্ল্যাটফর্মের আসক্তিকর ও প্রভাব বিস্তারকারী বৈশিষ্ট্য নিষিদ্ধ করতে হবে।’

গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনও বয়স উপযোগী বিধিনিষেধের আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোনো খেলনা নয়।’

তিনি লেখেন, ‘ইউরোপে যিনি কোনো পণ্য তৈরি করেন, তার নিরাপত্তার দায়িত্বও তারই। গাড়ি নির্মাতাদের অবশ্যই তাদের যানবাহন নিরাপদ করতে হবে। আমরা তো আশা করি না যে শিশুরা তাদের নিজেদের সিটবেল্ট নকশা করবে। আবার অভিভাবকেরা ঘরে বসে গাড়িতে এয়ারব্যাগ বসাবেন, এমনটাও আশা করি না। বিষয়টি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার আছে কি না, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কবে এবং কীভাবে আমাদের শিশুদের কাছে পৌঁছাবে।’

ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের নতুন প্রজাতি উদ্ভাবন

১২ বছরের কিশোরী তৈরি করল এআই রিসেপশনিস্ট

ইন্টারনেটের ধীরগতি, দায়ী ঘরের যে ৫ জিনিস

মহাকাশযানের দীর্ঘতম ঘুম ভাঙল মহাকাশের দূর সীমানায়

বৈদ্যুতিক সংকেতে ঘুরবে স্টিয়ারিং

এআইয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপে জড়ালেই অভিভাবককে জানাবে ইনস্টাগ্রাম

দুপুর থেকে ফেসবুক ডাউন, ফিরল বিকেলে

যুক্তরাজ্যে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’, কতটা কাজে দেবে

এক দিনেই ৬৮ বিলিয়ন ডলার উধাও, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পতনের মুখে আইবিএম

অর্ধশতাব্দীর অমীমাংসিত গণিত-ধাঁধা সমাধান করল চ্যাটজিপিটি