হোম > প্রযুক্তি

ইন্টারনেটের ধীরগতি, দায়ী ঘরের যে ৫ জিনিস

ফিচার ডেস্ক  

সাধের ওয়াই-ফাই কানেকশনটি হুটহাট স্লো হয়ে যাওয়া কিংবা বাফারিং করা এক চরম বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। অনেক সময় আমরা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা রাউটারকে দোষ দিই। কিন্তু ১৯৯৩ সালে বিশ্বের প্রথম বড় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তৈরির কারিগর কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালেক্স হিলস জানান, আমাদের ঘরেই এমন কিছু সাধারণ জিনিস বা ব্যাড বয়েজ থাকে, যা ওয়াই-ফাই তরঙ্গের শক্তি শুষে নেয় কিংবা তাকে বাধা দেয়। আপনার ঘরেও সে রকম জিনিসপত্র আছে কি না, খুঁজে দেখুন।

১. মাইক্রোওয়েভ ওভেন

আপনার দুপুরের বা রাতের খাবার গরম করার এই যন্ত্র ওয়াই-ফাইয়ের সবচেয়ে বড় শত্রু। সাধারণ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক এবং ব্লুটুথ ডিভাইসগুলো ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। কাকতালীয়ভাবে, মাইক্রোওয়েভ ওভেনও খাবার গরম করতে প্রায় একই রকমের ফ্রিকোয়েন্সি তৈরি করে। ওভেনটি পুরোনো হলে বা রান্না চলার সময় হুট করে দরজা খুলে দিলে সেখান থেকে তরঙ্গ লিক হয়ে ওয়াই-ফাই সিগন্যালে তীব্র জ্যাম বা ওভারল্যাপ তৈরি করে।

২. পানির অ্যাকুয়ারিয়াম বা ফিশ ট্যাংক

পানির কণাগুলো ওয়াই-ফাইয়ের রেডিও তরঙ্গের জন্য স্পঞ্জের মতো কাজ করে। যখন ওয়াই-ফাই সিগন্যাল কোনো অ্যাকুয়ারিয়ামের ভেতর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন পানির অণুগুলো ক্ষুদ্র চুম্বকের মতো সিগন্যালের শক্তি শুষে নেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় শ্যাডোয়িং। স্বাদুপানির চেয়ে নোনাপানির অ্যাকুয়ারিয়াম দু-তিন গুণ বেশি সিগন্যাল গ্রাস করে।

৩. আয়না ও বড় টেলিভিশন

রেডিও তরঙ্গ মূলত আলোরই আরেকটি রূপ। আলো যেমন প্রতিফলক পৃষ্ঠে লেগে বাউন্স করে, ওয়াই-ফাই সিগন্যালও আয়না বা টিভির ফ্ল্যাট স্ক্রিনে লেগে প্রতিফলিত হয়ে দিক হারায়। আয়নার পেছনে থাকা রুপা অথবা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ সিগন্যালকে বাধা দেয় এবং তরঙ্গের সংঘর্ষ ঘটিয়ে ঘরে ডেড স্পট তৈরি করে।

৪. ঘন দেয়াল

কাঠ বা ড্রাইওয়ালের ভেতর দিয়ে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল সহজে যেতে পারলেও কংক্রিট বা ইটের ঘন দেয়ালে তা পারে না। ৮ ইঞ্চির একটি কংক্রিট দেয়াল প্রায় ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত সিগন্যাল লস করাতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের গতি বেশি হলেও ঘন দেয়াল ভেদ করার ক্ষমতা এর বেশ কম।

৫. প্রতিবেশীর ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা কিংবা বহুতল অ্যাপার্টমেন্টে প্রতিবেশীদের ওয়াই-ফাই রাউটারগুলো একই চ্যানেলে (যেমন ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজের ১, ৬ বা ১১ নম্বর চ্যানেল) সচল থাকলে, বাতাসে সিগন্যালের জটলা তৈরি হয়। বিশেষ করে ছুটির দিনে অথবা সন্ধ্যায় যখন সবাই একসঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তখন এই ওভারল্যাপের কারণে নেটওয়ার্ক

ধীর হয়ে যায়।

ওয়াই-ফাই সিগন্যাল ঠিক করার সহজ উপায়

  • রাউটারটি সব সময় ঘরের ঠিক মাঝখানে এবং যতটা সম্ভব উঁচুতে রাখতে হবে, যেন সিগন্যাল চারপাশে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • সিগন্যালের রাস্তায় আয়না বা অ্যাকুরিয়াম যদি সরাতে না চান, তাহলে একটি ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার অথবা মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। এটি ছোট ছোট ডিভাইসের মাধ্যমে পুরো ঘরে সিগন্যাল বুস্ট করে পৌঁছে দেবে।
  • প্রতিবেশীদের ভিড় এড়িয়ে চলতে রাউটারের সেটিংস থেকে তুলনামূলক ফাঁকা ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডটি বেছে নিন।

সূত্র: বিবিসি

ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের নতুন প্রজাতি উদ্ভাবন

১২ বছরের কিশোরী তৈরি করল এআই রিসেপশনিস্ট

মহাকাশযানের দীর্ঘতম ঘুম ভাঙল মহাকাশের দূর সীমানায়

বৈদ্যুতিক সংকেতে ঘুরবে স্টিয়ারিং

এআইয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপে জড়ালেই অভিভাবককে জানাবে ইনস্টাগ্রাম

দুপুর থেকে ফেসবুক ডাউন, ফিরল বিকেলে

যুক্তরাজ্যে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’, কতটা কাজে দেবে

এক দিনেই ৬৮ বিলিয়ন ডলার উধাও, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পতনের মুখে আইবিএম

অর্ধশতাব্দীর অমীমাংসিত গণিত-ধাঁধা সমাধান করল চ্যাটজিপিটি

কিশোর-কিশোরীদের ‘ইটিং ডিজঅর্ডার’ কনটেন্ট দেখার পরামর্শ দিচ্ছে ইউটিউব, দাবি গবেষকদের