কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থার ভুল বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি গোয়েন্দা তথ্যের কারণে চলতি বছরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজে সামরিক অভিযান প্রায় চালাতে যাচ্ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ঘটনাটির সঙ্গে পরিচিত চারজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ওই ভুল গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে চীনা জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান বহন করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে গিয়ে তল্লাশি চালানো ও মাঝপথে আটকে দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা যখন বুঝতে পারেন যে এক গোয়েন্দা বিশ্লেষকের ব্যবহৃত একটি ‘এআই চ্যাটবট’ জাহাজের মালামাল ভুলভাবে শনাক্ত করেছে, তখন দ্রুত এই সামরিক অভিযান স্থগিত করা হয়।
সিএনএন-কে দেওয়া বক্তব্যে এক সূত্র জানান, ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি ছিল ‘পুরোপুরি মিথ্যা’, তবে এটি ‘প্রায় একটি যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিল’।
তবে ওই জাহাজটিতে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের মালামাল ছিল কিংবা এটি কোন গন্তব্যে যাচ্ছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
এই বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনী ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড’ (সেন্টকম) থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর এক জ্যেষ্ঠ গবেষক পদত্যাগ করার কিছুদিন পর এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে এল।
প্রতিষ্ঠানটির অপর এক কর্মী প্রকাশ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সত্যিই বিশ্বাস করি এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এবং আগামী এক দশকের মধ্যে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি।’
তবে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের এমন তীব্র সতর্কতা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন।