হোম > প্রযুক্তি

কয়েন আকারের ডিভাইসেও হ্যাক হতে পারে উড়োজাহাজ

টি এইচ মাহির 

সাইবার হামলা এখন ক্ষুদ্র ডিভাইসেও হতে পারে। একটি ক্ষুদ্র ডিভাইস একটি বিশাল সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে যেকোনো সময়। উড়োজাহাজে ওঠার সময় আমরা সাধারণত আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি বা পাইলটের দক্ষতা বিষয়ে ভাবি। কিন্তু যদি কয়েন আকারের একটি ইলেকট্রনিকস ডিভাইস একটি যাত্রীবাহী বিমানের কম্পিউটার সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করে? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক এমনই একটি আশঙ্কার কথা সামনে এনেছে, যা উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

গবেষণাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো এবং ওবারলিন কলেজের গবেষকেরা। ইউসেনিক্স সাইবার সিকিউরিটি কনফারেন্সে তাঁরা দেখিয়েছেন, একটি ওয়াই-ফাইযুক্ত ক্ষুদ্র ডিভাইস ব্যবহার করে বোয়িং ৭৩৭-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেমে ভুয়া সংকেত পাঠানো সম্ভব হতে পারে। গবেষকেরা এমন একটি হ্যাকিং-কৌশল উপস্থাপন করেছেন, যা একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের অটো পাইলট নিয়ন্ত্রণ করে এর নেভিগেশন পথ পরিবর্তন করতে পারে। অথবা নীরবে বিমানটির উড্ডয়ন ও জ্বালানি পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ মান পরিবর্তন করে স্ক্রিনে ভুল ফলাফল দেখিয়ে পাইলটকে বিভ্রান্ত করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো উড্ডয়নের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়া অন্য কোনো দেশের আকাশসীমায় চলে যাওয়া এমনকি ভয়াবহ দুর্ঘটনার মতো যেকোনো কিছুই ঘটাতে পারে।

সেই হ্যাকিংটি পরীক্ষা করার জন্য গবেষকেরা প্রায় একটি মুদ্রার আকারের ওয়াই-ফাইযুক্ত একটি প্রোটোটাইপ ডিভাইস তৈরি করেছেন, যার দাম ১০০ ডলারের কম। এক মিনিটের কম সময়ে এই হার্ডওয়্যার ইমপ্লান্টটি বিমানের বাইরের দিকে থাকা একটি হ্যাচের মাধ্যমে প্রবেশযোগ্য পোর্টে স্থাপন করা যায়, যা ফ্লাইটগুলোর মাঝে রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কর্মীদের নিয়মিত নাগালের মধ্যে থাকে। একবার এসব ডিভাইসের এটি স্থাপন করা হয়ে গেলে, সেটি বোয়িং ৭৩৭-এর অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কগুলোতে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠিয়ে সংবেদনশীল কম্পিউটার সিস্টেমগুলোতে কমান্ড নকল করতে পারে। এই সিস্টেমগুলো বিমানের অটো পাইলট পরিচালনা করে এবং পাইলটকে বিমানের মোট ওজন ও বাইরের বাতাসের তাপমাত্রার মান দেখায়। এসব তথ্য একটি ৭৩৭-এর উড্ডয়নের হিসাবের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে টেকঅফের গতি ভুল নির্ধারিত হতে পারে, যা চরম পরিস্থিতিতে রানওয়ে অতিক্রম, ভুল পথে নেভিগেশন বা গুরুতর দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গবেষকেরা এটিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখিয়েছেন।

গবেষকদের মতে, বিমানের দামি যন্ত্রাংশের নিরাপত্তাত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে বিশাল হুমকি হতে পারে এসব ছোট্ট ডিভাইস। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে তাঁরা বোয়িং ৭৩৭-এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে ট্রাইটন নামে একটি পরীক্ষামূলক সিস্টেম তৈরি করেন। ব্যবহৃত বিমানের যন্ত্রাংশ কিনে তাঁরা একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাভিওনিকস টেস্টবেড তৈরি করেন এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার সময় তাঁরা লক্ষ করেন, একটি নির্দিষ্ট পোর্ট থেকে এমন একটি অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে পৌঁছানো যায়, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত।

গবেষকেরা ছয় বছরের বেশি আগে তাঁদের অনুসন্ধানের তথ্য বোয়িংকে জানিয়ে দেন। তাঁরা বোয়িংয়ের একটি পরীক্ষাগারেও এই কৌশলের প্রদর্শনী করেন। বোয়িং জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিমানের নকশা ও পরিচালনাব্যবস্থায় একাধিক নিরাপত্তা স্তর রয়েছে। তাই বাস্তবে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। গবেষকেরাও বলেছেন, এটি একটি প্রুফ-অব-কনসেপ্ট বা সম্ভাব্য দুর্বলতা দেখানোর গবেষণা। বাস্তবে কোনো যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৩৭ এই পদ্ধতিতে হ্যাক হয়েছে এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। গবেষকেরা নিজেরাও নিয়মিত বোয়িং ৭৩৭ বিমানে ভ্রমণ করেন এবং সাধারণ যাত্রীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে গবেষকেরা আশা করেন, এই গবেষণা বিমানশিল্পকে আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করবে।

টি এইচ মাহির

সাইবার হামলা এখন ক্ষুদ্র ডিভাইসেও হতে পারে। একটি ক্ষুদ্র ডিভাইস একটি বিশাল সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে যেকোনো সময়। উড়োজাহাজে ওঠার সময় আমরা সাধারণত আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি বা পাইলটের দক্ষতা বিষয়ে ভাবি। কিন্তু যদি কয়েন আকারের একটি ইলেকট্রনিকস ডিভাইস একটি যাত্রীবাহী বিমানের কম্পিউটার সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করে? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক এমনই একটি আশঙ্কার কথা সামনে এনেছে, যা উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

গবেষণাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো এবং ওবারলিন কলেজের গবেষকেরা। ইউসেনিক্স সাইবার সিকিউরিটি কনফারেন্সে তাঁরা দেখিয়েছেন, একটি ওয়াই-ফাইযুক্ত ক্ষুদ্র ডিভাইস ব্যবহার করে বোয়িং ৭৩৭-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেমে ভুয়া সংকেত পাঠানো সম্ভব হতে পারে। গবেষকেরা এমন একটি হ্যাকিং-কৌশল উপস্থাপন করেছেন, যা একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের অটো পাইলট নিয়ন্ত্রণ করে এর নেভিগেশন পথ পরিবর্তন করতে পারে। অথবা নীরবে বিমানটির উড্ডয়ন ও জ্বালানি পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ মান পরিবর্তন করে স্ক্রিনে ভুল ফলাফল দেখিয়ে পাইলটকে বিভ্রান্ত করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো উড্ডয়নের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়া অন্য কোনো দেশের আকাশসীমায় চলে যাওয়া এমনকি ভয়াবহ দুর্ঘটনার মতো যেকোনো কিছুই ঘটাতে পারে।

সেই হ্যাকিংটি পরীক্ষা করার জন্য গবেষকেরা প্রায় একটি মুদ্রার আকারের ওয়াই-ফাইযুক্ত একটি প্রোটোটাইপ ডিভাইস তৈরি করেছেন, যার দাম ১০০ ডলারের কম। এক মিনিটের কম সময়ে এই হার্ডওয়্যার ইমপ্লান্টটি বিমানের বাইরের দিকে থাকা একটি হ্যাচের মাধ্যমে প্রবেশযোগ্য পোর্টে স্থাপন করা যায়, যা ফ্লাইটগুলোর মাঝে রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কর্মীদের নিয়মিত নাগালের মধ্যে থাকে। একবার এসব ডিভাইসের এটি স্থাপন করা হয়ে গেলে, সেটি বোয়িং ৭৩৭-এর অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কগুলোতে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠিয়ে সংবেদনশীল কম্পিউটার সিস্টেমগুলোতে কমান্ড নকল করতে পারে। এই সিস্টেমগুলো বিমানের অটো পাইলট পরিচালনা করে এবং পাইলটকে বিমানের মোট ওজন ও বাইরের বাতাসের তাপমাত্রার মান দেখায়। এসব তথ্য একটি ৭৩৭-এর উড্ডয়নের হিসাবের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে টেকঅফের গতি ভুল নির্ধারিত হতে পারে, যা চরম পরিস্থিতিতে রানওয়ে অতিক্রম, ভুল পথে নেভিগেশন বা গুরুতর দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গবেষকেরা এটিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখিয়েছেন।

গবেষকদের মতে, বিমানের দামি যন্ত্রাংশের নিরাপত্তাত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে বিশাল হুমকি হতে পারে এসব ছোট্ট ডিভাইস। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে তাঁরা বোয়িং ৭৩৭-এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে ট্রাইটন নামে একটি পরীক্ষামূলক সিস্টেম তৈরি করেন। ব্যবহৃত বিমানের যন্ত্রাংশ কিনে তাঁরা একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাভিওনিকস টেস্টবেড তৈরি করেন এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার সময় তাঁরা লক্ষ করেন, একটি নির্দিষ্ট পোর্ট থেকে এমন একটি অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে পৌঁছানো যায়, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত।

গবেষকেরা ছয় বছরের বেশি আগে তাঁদের অনুসন্ধানের তথ্য বোয়িংকে জানিয়ে দেন। তাঁরা বোয়িংয়ের একটি পরীক্ষাগারেও এই কৌশলের প্রদর্শনী করেন। বোয়িং জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিমানের নকশা ও পরিচালনাব্যবস্থায় একাধিক নিরাপত্তা স্তর রয়েছে। তাই বাস্তবে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। গবেষকেরাও বলেছেন, এটি একটি প্রুফ-অব-কনসেপ্ট বা সম্ভাব্য দুর্বলতা দেখানোর গবেষণা। বাস্তবে কোনো যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৩৭ এই পদ্ধতিতে হ্যাক হয়েছে এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। গবেষকেরা নিজেরাও নিয়মিত বোয়িং ৭৩৭ বিমানে ভ্রমণ করেন এবং সাধারণ যাত্রীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে গবেষকেরা আশা করেন, এই গবেষণা বিমানশিল্পকে আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করবে।