হোম > প্রযুক্তি

চাকরি কেড়ে নেওয়া নয়, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করছে এআই

ফিচার ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যেমন উন্মাদনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে এক অজানা আশঙ্কা। কেউ বলছেন, কাজের সুবিধা এসেছে। আবার কেউ ভাবছেন, চলে যাবে চাকরিটা! তবে সাম্প্রতিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এআই শুধু মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে না; বরং নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি এবং কর্মক্ষেত্রে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চ্যাটবট ডেভেলপার, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে এআই এথিসিস্ট—সব মিলিয়ে বিচিত্র এবং নতুন পেশার জন্ম দিচ্ছে এই প্রযুক্তি।

আপওয়ার্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারেট লিলানি মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা এখন অনস্বীকার্য। তবে আধুনিক এআই ব্যবস্থাপনায় হিউম্যান ইন দ্য লুপ বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকা অপরিহার্য। মানুষের সক্রিয় উপস্থিতি ছাড়া এআই শুধু লক্ষ্যহীন নয়, বরং স্বল্পস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

নিউরোডাইভারস পেশাদারদের জন্য সুযোগের সমতা

এআইয়ের অন্যতম বড় সাফল্য হলো কর্মক্ষেত্রে ‘অদৃশ্য বৈষম্য’ দূর করা। এডিএইচডি, অটিজম কিংবা ডিসলেক্সিয়ার মতো অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য জেনারেটিভ এআই এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউরোডাইভারস কর্মীরা সাধারণ কর্মীদের তুলনায় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারে ২৫ শতাংশ বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। পেশাদার জীবনে মাল্টিটাস্কিং বা মিটিংয়ের নোট নেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো এআইয়ের মাধ্যমে সহজে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে। এটি কর্মীদের নিজ নিজ বিশেষ দক্ষতায় (যেমন হাইপারফোকাস বা সৃজনশীলতা) আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান নিউরোডাইভারস কর্মীদের অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্ব দেয়, তাদের আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়ে।

নৈতিক রক্ষাকবচ ও ব্যবসায়িক সাফল্য

এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও সুশাসন এখন শুধু তাত্ত্বিক বিষয় নয়। বর্তমানে এটি ব্যবসায়িক সাফল্যের একটি বড় মানদণ্ড। এসএএসের গবেষণায় উঠে এসেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান এআই নীতি ও শাসনের ওপর বড় বিনিয়োগ করে, তারা তাদের বিনিয়োগের বিপরীতে দ্বিগুণ লাভ পাওয়ার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৬ গুণ বেশি এগিয়ে থাকে। এ ছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহারে ‘আনকনশাস বায়াস’ বা অবচেতন বৈষম্য দূর করতে নিয়মিত অডিট এবং নৈতিক নির্দেশিকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

এআই ভীতি দূরীকরণে নেতৃত্বের ভূমিকা

কর্মীদের মধ্যে এআই নিয়ে প্রচলিত ভয় দূর করার দায়িত্ব প্রধানত নেতৃত্বের ওপর বর্তায়। কানেক্টেড ইসির সিইও জ্যামি শাপিরোর মতে, ভয়টি প্রযুক্তির কাজ করার ক্ষমতা নিয়ে নয়। বরং নেতারা এর উদ্দেশ্য কীভাবে ব্যাখ্যা করছেন, তার ওপর নির্ভর করে। যদি এআইকে শুধু খরচ কমানো কিংবা কর্মী ছাঁটাইয়ের হাতিয়ার হিসেবে প্রচার করা হয়, তবে কর্মীরা একে হুমকি হিসেবে দেখেন। পক্ষান্তরে, একে যখন মানুষের কাজের ‘ক্যাপাসিটি’ বা সক্ষমতা বাড়ানোর সরঞ্জাম হিসেবে তুলে ধরা হয়, তখন কর্মীদের মধ্যে কৌতূহল এবং শেখার আগ্রহ তৈরি হয়। লিডারদের উচিত এআইকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে কর্মীরা বুঝতে পারেন, এটি তাঁদের প্রতিস্থাপন নয়, বরং তাঁদের কাজকে আরও সহজতর এবং সমৃদ্ধ করার জন্য এসেছে।

চূড়ান্ত সতর্কবার্তা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক সুরক্ষা

এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘গডফাদার অব এআই’ হিসেবে পরিচিত জেফরি হিন্টন কিছুটা ভিন্নধর্মী ও সতর্কতামূলক মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, এআই যখন মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে, তখন এর ওপর সরাসরি কোনো ‘কিল সুইচ’ বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কাজ না-ও করতে পারে। হিন্টনের মতে, প্রযুক্তির এই প্ররোচনা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের চিন্তার চেয়ে বেশি হতে পারে। সেই কারণে বর্তমান থেকে এআইকে মানবদরদি বা বেনেভোলেন্ট হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, এআইয়ের যাত্রা সরলরেখার মতো নয়। এটি যেমন একদিকে কর্মক্ষেত্রে ইনক্লুসিভিটি বা সবার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করছে, তেমনি নেতৃত্বের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিক শাসনের মাধ্যমে এটি মানুষের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করছে। প্রযুক্তির এই দ্রুত বিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে কর্মীদের নতুন দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এবং প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলাই হবে আগামী দিনের সফল কৌশল।

সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ ও সিএনবিসি

রিয়েলমির গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন ফুটবল তারকা রাফিনহা

মানুষের হাতেই কি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে ‘মানুষের নতুন প্রজাতি’

জাকারবার্গের মেটার ২০০ কোটি ডলারের উদ্যোগ আটকে দিল চীন

উড়ন্ত ট্যাক্সি এ বছর আকাশে উড়বে?

অভিভাবকদের হাতে মেটা এআই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা

সেপ্টেম্বরে নতুন নেতৃত্বে অ্যাপলের যাত্রা

নিষেধাজ্ঞায় কাজ হচ্ছে না, এখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার শিশুরা

যেসব ভুলে দ্রুত নষ্ট হয় চার্জিং কেব্‌ল, দীর্ঘস্থায়ী করার উপায় জানুন

হাজারো কর্মীকে স্বেচ্ছা অবসরে যেতে বলছে মাইক্রোসফট

কর্মীদের কি-বোর্ড ও মাউসের ওপর নজরদারি করছে মেটা