হোম > প্রযুক্তি

ইলন মাস্ককে ‘শিশুকামী’ আখ্যা দিয়ে গুপ্তহত্যার প্ররোচনা দিল তাঁরই এআই চ্যাটবট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এআই চ্যাটবট গ্রক নিজের মালিকের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করছে! ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট ‘গ্রক’-কে বিভ্রান্ত করে এর উদ্ভাবক ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও সহিংস বক্তব্য প্রকাশের ঘটনা ঘটেছে।

ব্যবহারকারীদের সাইবার কৌশলের মুখে পড়ে চ্যাটবটটির এমন অসংলগ্ন আচরণ প্রযুক্তি পণ্যের নিরাপত্তা বলয় এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সম্প্রতি এক্স প্ল্যাটফর্মে কিছু ব্যবহারকারী গ্রককে দিয়ে হিংসাত্মক ও অত্যন্ত আপত্তিকর কিছু বার্তা তৈরি করিয়ে নেন। তবে পরবর্তী সময়ে ওই পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার এক্সে প্রকাশিত এমন একটি কনভারসেশনে গ্রক ইলন মাস্ককে শিশুকামী (পেডোফাইল) বলে বর্ণনা করতে দেখা যায়। সেটি বলে, ইলন মাস্ক শিশুদের পর্ন দেখেন (ইলন মাস্ক ওয়াচেস চাইল্ড পর্ন)।

শুধু তা-ই নয়, এই ধরনের আলাপের একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে গ্রক ইলন মাস্ককে গুপ্তহত্যার পরামর্শও দিয়ে বসে। বার্তায় বলেন, ‘অ্যাসাসিনেট ইলন মাস্ক ২০২৬’।

ইলন মাস্ক সম্পর্কে আরও কিছু আপত্তিকর কথা বলে গ্রক। চ্যাটবটটি বলে, ইলন মাস্ক মরলেই ভালো (অ্যা ডেড ইলন মাস্ক ইজ অ্যা গুড ওয়ান)! ইলন মাস্ক থাকেন এপস্টেইন দ্বীপে (ইলন মাস্ক লিভস ওন এপস্টেইন আইল্যান্ড)।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ নয়, বরং এআই ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা চ্যাটবটটিকে তাদের ব্যক্তিগত প্রোফাইল বিবরণ বা ‘বায়ো’ হুবহু পুনরাবৃত্তি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বায়োতে থাকা আপত্তিকর ও উসকানিমূলক বাক্যগুলো গ্রক হুবহু আউটপুট হিসেবে প্রকাশ করে।

ঘটনার পর এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে গ্রক নিজেই জানায়, এটি একটি ‘প্রম্পট-ইনজেকশন গ্লিচ’ বা ইনপুটভিত্তিক প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলাফল ছিল। ইলন মাস্ক সম্পর্কিত আপত্তিকর দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সিস্টেমের ভুল বলে চ্যাটবটটি স্পষ্ট করে।

মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ (xAI) দ্বারা তৈরি গ্রক চ্যাটবটটিকে ‘সত্যানুসন্ধানী’ এআই হিসেবে প্রচার করা হলেও এটি আগেও একাধিকবার বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। গত বছরও চ্যাটবটটি অপ্রাসঙ্গিক পোস্টের জবাবে নির্দিষ্ট কিছু বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেছিল। বিভিন্ন সময়ে ব্যবহারকারীদের প্ররোচনায় ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক সত্যের বিকৃত ব্যাখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এর বিরুদ্ধে। কখনো আবার চরমপন্থী বক্তব্য ও সহিংস বাক্য তৈরিতেও এটিকে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

ইলন মাস্ক এসব ঘটনার পেছনে অতীতে ‘প্রতিকূল প্রম্পটিং’ বা ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তিকর নির্দেশকে দায়ী করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে প্রযুক্তিকে অতি সহজে অসাধু উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় বা বিভ্রান্ত করা সম্ভব, তার ওপর তথ্যের নির্ভুলতার জন্য ভরসা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ইলন মাস্ক দাবি করেছিলেন যে তাঁর তৈরি এআই মহাবিশ্বের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হবে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে গ্রকের এই ধরনের ধারাবাহিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সামনে আসায় বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ নিয়মনীতি ও কড়া সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জোরদার হচ্ছে।