বাংলাদেশে ধারাবাহিক ডেটা ব্রিচ, ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন এবং তথ্য সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্চি হক।
আমাদের ডেটা সুরক্ষাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিঃসন্দেহে দুর্বল। বর্তমান যুগে ডেটাই হচ্ছে নতুন কারেন্সি। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া ছাড়াও প্রতিপক্ষের ওপর কৌশলগত সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে ডেটার ওপর কর্তৃত্ব অর্জন করতে চায়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও এ সমস্ত কাজে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তা ছাড়া, ব্যক্তিগত ডেটার অপব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিকে অসুবিধাজনক অবস্থানে বা আইনি জটিলতায় ফেলে দেওয়া যায়।
এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত উচিত পদক্ষেপ। বাইরের দেশে এগুলোর জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। উপাত্ত সুরক্ষা নিয়ে আমাদের দেশেও যে সমস্ত আইনি বিধিবিধান তৈরি করা হয়েছে, সেখানেও এই পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।
সিভিকে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর ডেটার খনি বলা যেতে পারে। এসব ডেটার অপব্যবহার করে পরিচয় চুরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সাইবার আক্রমণ করা যেতে পারে। এসব ডেটা হাতে থাকলে ফিশিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন ম্যালওয়্যার ভিত্তিক আক্রমণ সহজ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ঝুঁকি তো থাকছেই।
এটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ শেষেই কেবল সেটি নিয়ে উপসংহারে পৌঁছানো যায়। ডেটা সংগ্রহ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। এটি মানুষ ম্যানুয়ালি যেমন করতে পারে, তেমনি আবার ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবেও করা সম্ভব। প্রত্যক্ষভাবে ডেটাবেইস থেকে নেওয়া যেমন সম্ভব, তেমনি আবার নানা পরোক্ষ উপায়ে সংগ্রহ করে অন্য কোনো পক্ষ এক জায়গায় সংগ্রহ করতে পারে।
এগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোতে বেশ কিছু রক্ষাকবচ দেওয়া আছে। কিন্তু আমাদের এখানে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত নিয়মকানুনগুলো এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে না। সেটি কেবল শুরু হয়েছে। এসবের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে তাগাদা না দিলে বা তদারকি না থাকলে এগুলো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ডেটা সুরক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে, সেটির জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।