জাপানের সরকারি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলার ঘটনায় প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার সরকারি কর্মী, ঠিকাদার এবং সরকারের হয়ে কাজ করা অন্যান্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির ডিজিটাল এজেন্সি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এজেন্সির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গভর্নমেন্ট সল্যুশন সার্ভিস বা জিএসএসে হামলার ঘটনা ধরা পড়ে গত ২৫ জুন। ওই দিন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা-সংক্রান্ত একটি হিসাব ব্যবহার করে সার্ভারে থাকা হাজারো ফাইলে প্রবেশ করা হয়।
গত ৯ জুলাই তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিপিএনের দুর্বলতার কারণে তৃতীয় পক্ষ এই অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। একই দিন রক্ষণাবেক্ষণ অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। পাশাপাশি যাতে আর কোনো অননুমোদিত প্রবেশ না ঘটে, সে জন্য নেটওয়ার্কের যন্ত্রগুলোর সঙ্গে বাইরের সিস্টেমগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। বাইরের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আরও তদন্ত চালানোর পর জানা যায়, নেটওয়ার্কে থাকা কিছু ফাইল চুরি হয়ে থাকতে পারে।
ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে জিএসএস ব্যবহারকারী সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মী, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং জিএসএস পরিচালনাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের তথ্য রয়েছে।
জিএসএসের সদস্য সংগঠনগুলোর কর্মী এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার রেকর্ড রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির প্রায় ৫৭ হাজার রেকর্ড রয়েছে।
জাপানের ডিজিটাল এজেন্সি জানিয়েছে, ফাঁস হয়ে থাকতে পারে এমন তথ্যের মধ্যে ‘মাই নম্বর’ শনাক্তকারী, ব্যাংক হিসাব নম্বর বা পেনশন নম্বর ছিল না। সাধারণ নাগরিকের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়নি বলেও আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
ফাঁস হয়ে থাকতে পারে এমন ব্যক্তিগত তথ্যের কোনো অপব্যবহার এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করছে।
এজেন্সি সতর্ক করেছে, যোগাযোগের তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি বা ফিশিং হামলা চালানো হতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঠানো সন্দেহজনক ই-মেইল, ফোনকল বা বার্তায় থাকা লিংকে বা অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক না করতে এবং পাসওয়ার্ড, অথেন্টিকেশন কোড বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থার বাইরেও অবকাঠামো ও অননুমোদিত প্রবেশসংক্রান্ত নিরাপত্তা ঘটনা উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে। অন-চেইন নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম ব্লকএইডের দাবি, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ক্রিপ্টো খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার। ছয় মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক হ্যাকিংয়ের ঘটনা দেখা গেছে এ খাতে। হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইথেরিয়াম ও সোলানা নামের দুটি ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক।