উড়োজাহাজে বসে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট একসময় ছিল বিলাসিতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন সেটি প্রয়োজন হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। আধুনিক ইন-ফ্লাইট কানেকটিভিটিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কাতারের এই বিমান প্রতিষ্ঠান।
কাতার এয়ারওয়েজ বিশ্বের প্রথম এয়ারলাইন হিসেবে বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোজন করেছে। একই সঙ্গে, মাত্র আট মাসের মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের পুরো এয়ারবাস এ৩৫০ বহরে স্টারলিংক ইন্টারনেট স্থাপনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করেছে। এটি ছিল বিশ্বে প্রথমবারের মতো কোনো এয়ারলাইনসের এয়ারবাস এ৩৫০ উড়োজাহাজে স্টারলিংক প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।
রেকর্ড যাত্রা
মাত্র ১৪ মাসের মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের বোয়িং ৭৭৭ এবং এয়ারবাস এ৩৫০ বহরে স্টারলিংক ইন্টারনেট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে। এরপর এই সেবা সম্প্রসারণ করা হয় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে। এত অল্প সময়ে এত বড় একটি বহরে এই আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা বিশ্ব বিমানশিল্পে বিরল দৃষ্টান্ত। বর্তমানে কাতার এয়ারওয়েজের প্রায় ১২০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজে স্টারলিংক চালু রয়েছে, যা তাদের মোট ওয়াইডবডি বহরের ৫৮ শতাংশের বেশি। এর ফলে স্টারলিংক সংযুক্ত ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের সংখ্যায় কাতার এয়ারওয়েজ এখন বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে।
যাত্রীর অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন
স্টারলিংকের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ৫০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট। কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই। তাই দীর্ঘ ফ্লাইটে বসে সম্ভব হচ্ছে লাইভ স্ট্রিমিং, ভিডিও কল, অনলাইন মিটিং কিংবা অফিসের জরুরি কাজ। অনেক ক্ষেত্রে এই গতি ঘরের ব্রডব্যান্ডের সমান কিংবা তার চেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই সেবা চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এক কোটির বেশি যাত্রী কাতার এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজে বিনা মূল্যে স্টারলিংক ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে স্টারলিংকের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ যাত্রীর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিলেন কাতার এয়ারওয়েজের যাত্রী।
গতি ও দক্ষতা
স্টারলিংক শুধু যাত্রীসেবাই নয়, এয়ারলাইনের কাজেও বড় পরিবর্তন এনেছে। ফ্লাইট ও ক্রু রোস্টারের আপডেট তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করা যাচ্ছে। জরুরি বা চিকিৎসা পরিস্থিতিতে কেবিন ক্রু ও গ্রাউন্ড টিমের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে। এমনকি প্রকৌশলীরা ফ্লাইট চলাকালীন বিমানের বিভিন্ন সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। ফলে বিমান অবতরণের পর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরবর্তী ফ্লাইটের প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
পাঁচ মহাদেশে
আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলেও ধাপে ধাপে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণ করছে কাতার এয়ারওয়েজ। দীর্ঘ ফ্লাইটে যাত্রীরা যেখানে ভ্রমণ করুন না কেন, তাঁদের ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থাকছে প্রায় একই রকম।
আকাশপথের যাত্রা অনেকের কাছে একঘেয়েমি লাগে। আর ফ্লাইট যদি দীর্ঘ হয়, তাহলে তো কথাই নেই। যদিও ইন্টারনেট সেবা অনেক এয়ারলাইনসেই রয়েছে। তবে সেটি শ্রেণিভেদে অথবা অতিরিক্ত অর্থের মাধ্যমে সেই সেবা নিতে হয়। তবে কাতার এয়ারওয়েজে স্টারলিংকের এই সেবা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এবং সব শ্রেণির জন্য। এতে দীর্ঘ ফ্লাইটের যাত্রীর আরও স্বচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারবেন। সেই সঙ্গে বিমানযাত্রার অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ হলো।
সূত্র: কাতার এয়ারওয়েজ