হোম > খেলা > টেনিস

ইউএস ওপেনের নতুন রানী রিবাকিনা

ক্রীড়া ডেস্ক    

এলেনা রিবাকিনা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোজে অবশেষে শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন এলেনা রিবাকিনা। ফাইনালে দুইবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে প্রথমবার ইউএস ওপেন জিতলেন কাজাখস্তানের ২৭ বছর বয়সী তারকা।

ম্যাচের শুরু থেকেই সাবালেঙ্কাকে চাপে রেখেছিলেন রিবাকিনা। প্রথম সেট ৬-৪ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সেটে পাল্টা লড়াই করেন সাবালেঙ্কা, জিতে নেন ৭-৫ গেমে। তবে নির্ধারক সেটে আর সুযোগ দেননি রিবাকিনা। ৬-২ ব্যবধানে সেটটি জিতে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা।

শিরোপার পাশাপাশি সাবালেঙ্কার ইউএস ওপেনে টানা ১৯ ম্যাচের জয়ের ধারাও থামিয়েছেন রিবাকিনা। ২০২৩ সালের ফাইনালে কোকো গফের কাছে হারের পর ফ্লাশিং মিডোজে আর হারেননি সাবালেঙ্কা। এবার তৃতীয় টানা ইউএস ওপেন জয়ের লক্ষ্য পূরণ হলো না তাঁর। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেরেনা উইলিয়ামসের পর টানা তিনবার এই শিরোপা জেতা প্রথম নারী হওয়ার সুযোগ ছিল সাবালেঙ্কার সামনে।

রিবাকিনার জয়ের অন্যতম বড় কারণ ছিল তাঁর কার্যকর রিটার্ন। নিজের প্রথম সার্ভিসের অর্ধেকেরও কম সঠিক হলেও সাবালেঙ্কার সার্ভিসে নিয়মিত চাপ তৈরি করেন তিনি। মোট ১২টি ব্রেক পয়েন্টের সুযোগ তৈরি করে তিনটিতে সফল হন রিবাকিনা। যা শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।

শিরোপা জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রিবাকিনা বলেন, ‘এই মুহূর্তে সত্যি বলতে কী, কী বলব খুঁজে পাচ্ছি না। এই টুর্নামেন্টে এসে এমন কিছু ঘটবে, আমি একদমই আশা করিনি। আমি একটু চোটের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কোনোভাবে সবকিছুই আমার পক্ষে মিলে গেল।’

এই মৌসুমে এটি রিবাকিনার দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও সাবালেঙ্কাকে হারিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে উইম্বলডন জয়ের পর এটি তাঁর তৃতীয় মেজর শিরোপা। ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম পূর্ণ করতে এখন রিবাকিনা সামনে বাকি শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেন।

ইউএস ওপেন জয়ের পুরস্কার হিসেবে রিবাকিনা পেয়েছেন ৫৫ লাখ ডলার। যা গ্র্যান্ড স্লামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রাইজমানি। এ মৌসুমে তিনটি শিরোপা নিয়ে ট্যুরে সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ীদের তালিকায় সাবালেঙ্কা ও মিরা আন্দ্রিভার সঙ্গে নাম লিখিয়েছেন তিনি।

সাবালেঙ্কার জন্য হারটা ছিল আরও হতাশার। ফাইনালের পর রিবাকিনার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলিঙ্গনের পর নিজের র‍্যাকেট আছড়ে ভেঙে ফেলেন তিনি। পরে বলেন, ‘সত্যিই এখানে আমার ঘরের মতো মনে হয়েছে। আগামী বছর আবার ফিরতে তর সইছে না। ইশ, যদি একটু ভালো খেলতে পারতাম। তবে মনে হয়, আগামী বছর।’