হোম > খেলা > টেনিস

জভেরেভের বিলম্বিত বিকাশ

ক্রীড়া ডেস্ক    

ইউএস ওপেন জয়ের পর আলেক্সান্দার জভেরেভ। ছবি: সংগৃহীত

ছয় বছর আগে এই ফ্ল্যাশিং মিডোতেই ফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন আলেক্সান্দার জভেরেভ। ২০১৩ সালে পেশাদার সার্কিটে পা রাখা উদীয়মান এই জার্মানের সেটাই ছিল প্রথম ফাইনাল। প্রথম দুই সেট জিতে স্বপ্নপূরণের খুব কাছাকাছিই চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাঁচ সেটের রোমাঞ্চকর ফাইনালে হেরে যান জভেরেভ। ওই হারের পর কান্না আটকাতে পারেননি জভেরেভ। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে অঙ্গীকার করেছিলেন, ‘একদিন এই ট্রফি ঠিকই জিতব।’

সেই কথা রাখলেন ২৯ বছর বয়সী আলেক্সান্দার জভেরেভ। আমেরিকানদের স্বপ্ন সওয়ার হয়ে ফাইনালে ওঠা বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ইউএস ওপেনের নতুন রাজা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম। প্রথম শিরোপাটি জিতেছিলেন এ বছরই ক্লে কোর্টের ফ্রেঞ্চ ওপেনে। ক্লে ও হার্ড কোর্টের এই দুই শিরোপার মাঝে ফাইনাল খেলেছেন ঘাসের কোর্টের গ্র্যান্ড স্লাম উইম্বলডনেও। অর্থাৎ টানা তিনটি গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনাল, দুটি শিরোপা—ভাবা যায়! ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম সময় কাটাচ্ছেন জভেরেভ।

এই সাফল্যকে তাঁর বিলম্বিত পরিস্ফুটন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সালে হালে ওপেনের সেমিফাইনালে রজার ফেদেরারকে হারিয়ে সবার নজর কেড়েছিলেন জভেরেভ। এরপর ২০১৮ সালে এটিপি ফাইনালসের ফাইনালে যখন নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে জিতলেন শিরোপা। কোর্টে তাঁর কৈশোরীয় চাঞ্চল্য দেখে জার্মান টেনিস গ্রেট তাঁকে ‘ভবিষ্যতের তারকা’ হিসেবে ঘোষণা দিলেন। কিন্তু কোথায় কি? পরের সাত বছরে একটি গ্র্যান্ড স্লামও জিততে পারেননি। এরপর তো টেনিসের ‘না ফোটা কলি’ অপবাদই শুনতে শুরু করেছিলেন তিনি। সেসব দিন পেছনে ফেলে সময় এখন নিজের করে নিয়েছেন জভেরেভ।

পরশুর ফাইনালে জভেরেভের প্রতিপক্ষ শুধু শেলটনই ছিলেন না, ছিলেন গ্যালারির প্রায় চব্বিশ হাজার দর্শকও। একে তো ঘরের ছেলে। তার ওপর দীর্ঘদিন কোনো স্বাগতিক প্রতিযোগী ইউএস ওপেন জেতেন না। শুধু ইউএস ওপেনই বা বলছি কেন, ২০০৩ সালে আমেরিকান অ্যান্ডি রডিকের ইউএস ওপেন জয়ের পর আর কোনো আমেরিকান পুরুষ প্রতিযোগী গ্র্যান্ড স্লামেই সাফল্য পায়নি। বেন শেলটনের কাঁধে ভর করে এই সাফল্য-বন্ধ্যত্ব ঘোচানার আশা করেছিলেন স্থানীয় দর্শকেরা। কিন্তু আমেরিকানদের আশাহত করলেন জভেরেভ।

২০২৬ ইউএস ওপেন ফাইনালে বেন শেলটনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আলেক্সান্দার জভেরেভ। ছবি: আজকের পত্রিকা গ্রাফিকস

শুরু থেকেই করতালি ও হর্ষধ্বনিতে শেলটনকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন দর্শকেরা। কিন্তু জভেরেভ শুধু নিমগ্ন ছিলেন নিজের খেলা নিয়ে। এতটাই, ম্যাচের শেষ সার্ভটি করার পরও জভেরেভ বুঝতে পারেননি যে ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। পরের পয়েন্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে বেসলাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তখন দলের সদস্যরা জানান, ম্যাচ জিতে গেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে বললেনও, ‘সেই মুহূর্তে আমি পুরোপুরি খেলায় ডুবে ছিলাম। কোনো শব্দই শুনতে পাচ্ছিলাম না। স্কোরও ভুলে গিয়েছিলাম। শুধু পরের পয়েন্টে মনোযোগ দিয়েছিলাম, আর সেটাই আমাকে (ফাইনাল জিততে) সাহায্য করেছে।’

এরপরই তাঁর মুখাবয়বে খুশির ঝিলিক। দুই হাত ওপরে তুলে উদ্‌যাপন। ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যে ইউএস ওপেনও জিতে নিলেন জভেরেভ।

১৯৮৯ বরিস বেকারের পর প্রথম জামার্ন পুরুষ প্রতিযোগী হিসেবে ফ্ল্যাশিং মিডোয় শিরোপা জিতলেন জভেরেভ। তাতে জার্মানদের ৩৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘুচলেও আমেরিকানদের ২৩ বছরের অপেক্ষা আরও বাড়ল।