নেপালের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে শুরু, ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হার। বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে বাংলাদেশের প্রথম দুই ম্যাচে দেখা গেল দুই রকম চিত্র। আজ শক্তিশালী ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলে হেরে শারীরিক সক্ষমতা ও খেলার মানে প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজেদের ব্যবধানটা ভালোভাবেই বুঝেছে স্বাগতিকেরা। তবে ফাইনালে ওঠার সুযোগ এখনো আছে বাংলাদেশের সামনে। সেখানে আবার ভারতের মুখোমুখি হলে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করবে দল।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলানসো ফ্রাগুয়া প্রতিপক্ষের সঙ্গে ব্যবধানের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে সারা বছর অনুশীলন করে নিজেদের প্রস্তুত করছে। বাংলাদেশের মেয়েদের প্রস্তুতি সেখানে অনেকটাই সীমিত। এ ব্যবধানের প্রভাব পড়েছে খেলার গতিতে, আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই।
কোচ বলেন, ‘আজকের ম্যাচটি দুটি দেশের মধ্যে, যার একটি গত কয়েক বছর ধরে সত্যিই খুব পরিশ্রম করছে, সেটি হল ভারত। আর অন্য দেশটিও কঠোর পরিশ্রম করছে তবে ভিন্ন মাত্রায়, সেটি হল বাংলাদেশ। সুতরাং অবশ্যই আমাদের শারীরিক অবস্থা ভিন্ন, হ্যান্ডবলের স্তর ভিন্ন, এবং আমরা তা মাঠে দেখতেই পাচ্ছি।’
বাংলাদেশের অনুশীলনের সময়সীমা যে বড় বাধা, সেটিও উল্লেখ করেছেন ফ্রাগুয়া। তাঁর ভাষায়, ‘অবশ্যই, তারা সারা বছর অনুশীলন করছে। বাংলাদেশে আমরা সারা বছর অনুশীলন করছি না, বছরে মাত্র ৩ মাসের মতো। আপনি এই মেয়েদের দেখতে পারেন, তারা শক্তিশালী, তারা প্রচুর শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করেছে, এবং আমি মনে করি এটাই আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য।’
শারীরিকভাবে পিছিয়ে থাকায় ভারতের খেলোয়াড়দের মোকাবিলা করাও কঠিন হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। কোচের ব্যাখ্যা, ‘আক্রমণে, তাদের এক-একা পরাস্ত করতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে কারণ তারা শক্তিশালী ছিল, এবং রক্ষণে তাদের থামাতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছিল কারণ তারা দ্রুতগামী এবং শক্তিশালী। সুতরাং অবশ্যই এখানে শারীরিক সক্ষমতার অনেক প্রভাব রয়েছে।’
বড় হারের পরও বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আগামীকাল মালদ্বীপের বিপক্ষে জিতলেই ফাইনালে জায়গা করে নেবে স্বাগতিকেরা। তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছেন না ফ্রাগুয়া। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মালদ্বীপ একটি ভালো দল যারা আমাদের বিপক্ষে ভালো খেলতে পারে এবং আমরা যদি ফাইনালে পৌঁছাতে চাই তবে আমাদের মনোযোগী হতে হবে এবং সেরাটা দিতে হবে।’