তিন বছর পর আবারও মাঠে গড়াচ্ছে প্রথম বিভাগ হকি লিগ। ২০২৩ সালে সর্বশেষ এই প্রতিযোগিতা হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়েছে। এই সময়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ক্যাম্প ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকলেও অনেক স্থানীয় খেলোয়াড়ের সামনে ছিল না নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ। কেউ অন্য পেশায় ঝুঁকেছেন, কেউ হকিই ছেড়ে দিয়েছেন। তাই আগামীকাল থেকে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে প্রথম বিভাগ হকি লিগ শুরু হওয়ার খবরে খেলোয়াড়দের আনন্দটা অন্য রকম।
ঢাকা ইউনাইটেডের গোলকিপার ও অধিনায়ক ইয়াসিন আরাফাত হিমেলের কাছে মাঠে ফেরার অনুভূতি ঈদের আনন্দের মতো। তিন বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না থাকায় জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যেই ঘুরেফিরে খেলা হয়েছে। এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়েরা আবার এক জায়গায় মিলিত হচ্ছেন। আজকের পত্রিকাকে গতকাল হিমেল বলেন, ‘আসলে আমরা চাই মাঠে খেলা থাকুক। মাঠে যখন খেলা থাকে, তখন ঈদের মতো মনে হয়। খুব ভালো লাগছে, অনেক খেলোয়াড় একত্র হচ্ছি। খেলা হলে একেকজন একেক জেলা থেকে আসে। একটা মিলনমেলার মতো মনে হয়।’
তিন বছরের বিরতির গল্পটা সবার জন্য এক নয়। কম্বাইন্ড এসসির মেহেদী হাসান সিফাত ২০২৩ সালের পর জেলা দল কিংবা অন্য কোনো লিগে লোকাল খেলোয়াড়দের নিয়মিত খেলার সুযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, শুধু প্রথম বিভাগ নয়, হকির সব স্তরের প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করা হোক। সিফাত বলেন, ‘২০২৩ সালের পর থেকে স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে কোনো খেলাই হয়নি। ফেডারেশনের কাছ থেকে একটাই আশা রাখি, মাঠে সব সময় খেলা হোক।’
খেলা না থাকায় অনেক খেলোয়াড় যে হারিয়ে যাচ্ছেন, সেটি আরও স্পষ্ট করেছেন ওয়ান্ডারার্সের মিডফিল্ডার সাদমান সাকিব। ২০২১ সালে পুলিশ দলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলা এই খেলোয়াড় এবার প্রথম বিভাগে নেমেছেন। তাঁর চোখে এই লিগ নিজের ক্যারিয়ারকে আবার সামনে নেওয়ার সুযোগ। সাদমান বলেন, ‘তিন বছর পর যদি এভাবে লিগ হয়, তো অনেক খেলোয়াড়ই তো হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকে খেলা ছেড়ে দিয়েছে। অনেকজন দেখবেন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে গেছে। তাই খেলাটা মাঠে রাখা বেশ জরুরি। না হলে এভাবে খেলোয়াড়েরা হারিয়ে যেতে থাকবে।’
দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে হকির বাইরে অন্য পেশায় ঝুঁকেছেন ওয়ারীর অধিনায়ক মোহাম্মদ খায়রুল আমিন। দিনাজপুরে তাঁর ক্রীড়াসামগ্রীর ব্যবসা আছে। নিয়মিত ম্যাচ না থাকায় অনুশীলনও হয়ে উঠেছিল অনিয়মিত। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে করতে শেষ পর্যন্ত অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে গিয়েছিলাম।’
এবার অবশ্য মাঠেই ফেরার পালা। ওয়ারী এবার প্রথম বিভাগে নেমেছে। প্রিমিয়ার লিগে খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা খায়রুলের লক্ষ্যও দলকে দ্রুত ওপরে তোলা, ‘চেষ্টা আছে, দেখা যাক কী হয় বাকিটা।’
আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া ১১ দলের লিগে শুধু চ্যাম্পিয়ন দল পাবে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার সুযোগ। তিন বছর পর মাঠে ফেরার আনন্দের সঙ্গে তাই আছে নিজেদের প্রমাণ করার লড়াইও। তবে আপাতত খেলোয়াড়দের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তিটা আবার মাঠে নামতে পারার।