বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আট মৌসুমের সম্পর্ক শেষ করে নতুন মৌসুমে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দিয়েছেন আনিসুর রহমান জিকো। বসুন্ধরার হয়ে ছয়টি লিগ শিরোপা জেতা এই গোলকিপারের সামনে এবার নতুন চ্যালেঞ্জ। মোহামেডানের হয়ে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত খেলে জাতীয় দলে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যও তাঁর। নতুন ক্লাব, গোলকিপারদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনার কথা আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন জিকো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ
প্রশ্ন: বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার কারণ কী?
আনিসুর রহমান জিকো: বসুন্ধরায় তো আমি আট মৌসুম খেলেছি, ছয়টা শিরোপা জিতেছি এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ট্রফি জিতেছি। তো ওভারঅল সবকিছুই জিতেছি। এখন আমার নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া দরকার মনে করছি। এ জন্য মোহামেডানে আসা। মোহামেডান একটা ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। আশা করি এখানেও টিমকে সাহায্য করব। অনেক ভালো প্লেয়ার নিয়েছে। যদি ওরা ভালো করতে পারে এবং বিদেশি যারা আছে, সবাই যদি একটা ভালো বন্ডিং থাকে, তাহলে আশা করি ট্রেবল জিততে পারব।
প্রশ্ন: একসময় আপনি জাতীয় দলের এক নম্বর গোলকিপার ছিলেন। এখন সেই ম্যাচ টাইম পান না, স্কোয়াডেও জায়গা পান না। এবার কি মনে হয়, মোহামেডানে খেললে জাতীয় দলের সেই জায়গাটা ফেরত পাবেন?
জিকো: হ্যাঁ, অবশ্যই। গত মৌসুমে তো বসুন্ধরার হয়ে পুরোটা সময় খেলছি। এখন মোহামেডানে আসছি। মোহামেডান যেহেতু একটা ভালো দল গঠন করছে, সবকিছু মিলিয়ে যদি মোহামেডানে খেলতে পারি, আশা করি জাতীয় দলেও ইনশা আল্লাহ জায়গা ফিরে পাব।
প্রশ্ন: মোহামেডানে তো সুজন হোসেন প্রথম পছন্দের গোলকিপার হিসেবে দীর্ঘদিন খেলে আসছেন। এখানে আপনার লড়াইটা কেমন হবে?
জিকো: হ্যাঁ, এখানে সুজন ভাই, বিপু ভাই, মাহিন—যাঁরা আছেন, সবাই ভালো। আশা করি একটা ভালো লড়াই হবে। যে ট্রেনিংয়ে ভালো করবে, সে-ই খেলবে।
প্রশ্ন: এটাকে আপনার জন্য একটা নতুন চ্যালেঞ্জও বলা যায়?
জিকো: হ্যাঁ, অবশ্যই চ্যালেঞ্জ। নতুন ঠিকানা যেহেতু আমার এটা। নতুন জায়গায় এসে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। লম্বা সময় প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাব, কোচ দেখবে, গোলকিপিং কোচ থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে নিজের খেলাটা আরও ভালো করার সুযোগ পাব।
প্রশ্ন: মোহামেডান এবার চ্যাম্পিয়ন হতে চায়। দলে আপনার মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকা অনেক খেলোয়াড়ও আছেন। এই অভিজ্ঞতা কতটা কাজে দেবে?
জিকো: হ্যাঁ, এখানে তো আমরা বেশির ভাগ প্লেয়ারই শিরোপাজয়ী। বসুন্ধরা কিংস থেকে অনেকে এসেছি। তো আমরা সবাই যদি ওই মেন্টালিটি নিয়ে খেলি—আমরা যে বসুন্ধরায় কেমনে ম্যাচ জিততে হয়, ম্যাচ কীভাবে উইন হতে হয়—যদি আমরা ওইভাবে প্রিপেয়ার থাকি, তাহলে আশা করি সফল হব ইনশা আল্লাহ, ডেলিভার করতে পারব।
প্রশ্ন: বসুন্ধরায় শিরোপা জেতার যে মানসিকতা ছিল, সেটাই মোহামেডানেও কাজে লাগাতে চান?
জিকো: অবশ্যই। আমরা যারা বসুন্ধরা থেকে এসেছি, তারা সবাই জানি, কীভাবে একটা দলকে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে হয়। সেই মানসিকতা যদি মোহামেডানেও ধরে রাখতে পারি, তাহলে আশা করি ভালো কিছু করতে পারব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে দল হিসেবে ভালো করা এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা।