ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। অবশেষে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি। সব ভুলে এখন তিনি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিফা গত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ফেডারেশনের নতুন কিছু সিদ্ধান্তের কথা। ইনফান্তিনো গতকাল ফিফা কাউন্সিলের সভায় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তিনি ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে এই সভায়। এ সময় ফিফা সভাপতি অতীতে হওয়া ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ইনফান্তিনো। ফিফার ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রথমেই, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও পরামর্শ প্রক্রিয়ায় আমাদের যেসব ভুল হয়েছে, সেজন্য ক্ষমা চেয়েছি। এসব ভুলের কারণে অনেক নেতিবাচক পরিণতি হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে এটি ছিল কেবল এক প্রস্তাব। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান উৎস থেকে পাওয়া সহায়তার বিকল্প হিসেবে নয়। বরং ফিফা যাতে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা।’
২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন, কনফেডারেশন এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত নিয়ে যাবে ফিফা। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ৭৮১১৪ কোটি টাকা। সভায় অনেকের ভিন্ন মত ছিল। অনেক রকম দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল। সবকিছু নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতি যথাসময়ে লিখিতভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এবং ফিফার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেবি হিউইট পরে জানিয়েছেন, ফিফা কাউন্সিলের এই বৈঠকে সবকিছু খোলামেলা আলোচনা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। হিউইট বলেন, ‘হতাশাজনক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, আমরা নির্দিষ্টভাবে যেসব বিষয়ের উত্তর চেয়েছিলাম, সেগুলোর কোনো উত্তরই পাইনি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা এফএফই প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়েছিলাম। কিন্তু সেগুলোও দেওয়া হয়নি।’
ফিফার সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পর্যালোচনা করতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। শাস্তিমূলক কার্যক্রমের পদ্ধতি এবং ফিফা শান্তি পুরস্কার বিষয়ে পর্যালোচনা করবে ফিফার স্থায়ী কমিটিগুলো।