আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে ম্যানচেস্টার সিটিকে। এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। একই সঙ্গে ক্লাবটির বিরুদ্ধে চলমান প্রক্রিয়াকে স্বাধীনভাবে শেষ করার ওপরও জোর দিয়েছে তারা।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম গুরুতরভাবে ভঙ্গের অভিযোগে স্বাধীন কমিশন সম্প্রতি ম্যানসিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। কমিশনের রায়ে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একাধিক মৌসুমে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের বিষয় উঠে এসেছে। তবে সিটি শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটির দাবি, কমিশনের সিদ্ধান্তে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে। নিজেদের অবস্থানের পক্ষে অখণ্ডনীয় প্রমাণৎ রয়েছে বলেও জানিয়েছে ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি।
এই পরিস্থিতিতে সিটির মালিকানা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছিলেন, আবুধাবিভিত্তিক মালিকেরা আধুনিক ম্যানচেস্টার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিলেন। ক্লাবটিকে বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত করতেও তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মালিকানা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের জল্পনার প্রসঙ্গে বার্নহাম বলেন, ‘তাদের হারাতে হলে আমি সত্যিই খুব উদ্বিগ্ন হব।’
বার্নহামের এই মন্তব্যের পর সমালোচনা শুরু হয়। ছায়া ক্রীড়ামন্ত্রী লুই ফ্রেঞ্চ বলেন, সরকারের উচিত ফুটবল থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখা। একই সঙ্গে চলমান প্রক্রিয়ায় স্বাধীন কমিশনের ওপর কোনো ধরনের বাইরের প্রভাব না রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। একজন মুখপাত্র বলেন, সিটির বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং এটি স্বাধীনভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেমন স্পষ্ট করেছেন, প্রাথমিক রায়টি গুরুতর এবং কেউই যে নিয়মের ঊর্ধ্বে নয়, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন, এটি একটি চলমান স্বাধীন প্রক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া এবং এর ফলাফলকে সম্মান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে যারা এর জন্য দায়ী, তাদের উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
ফ্রেঞ্চ অবশ্য বার্নহামের মন্তব্যের সমালোচনা আরও জোরালোভাবে করেন। তিনি বলেন, ‘ম্যানচেস্টার সিটির মালিকদের সমর্থনে অ্যান্ডি বার্নহামের হস্তক্ষেপ সত্যিই বিস্ময়কর। ক্লাবটি নজিরবিহীন অভিযোগের মুখে রয়েছে এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর পড়ে সমর্থকেরা আতঙ্কিত।’
এদিকে আপিলের পর এখন ম্যানসিটির মামলাটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। স্বাধীন তিন সদস্যের একটি আপিল বোর্ড বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। প্রিমিয়ার লিগের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপিল শুনানি ১২ সপ্তাহের মধ্যে হওয়ার কথা এবং শুনানি শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে জরিমানা, পয়েন্ট কর্তনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া নিষেধাজ্ঞার কথা আলোচনায় রয়েছে। তবে আপিলের ফল না আসা পর্যন্ত সিটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি কী হবে, তা নির্ধারিত হয়নি।