বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি তারকা মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা করছে নাইকি। মাঠের বাইরের নির্লিপ্ত স্বভাব, মাঠে তাঁর বিধ্বংসী পারফরম্যান্স এবং পুরোনো বুটের প্রতি ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালাতে চায় ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি।
ফুটি হেডলাইন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলিসেকে আর দশজন ফুটবল তারকার মতো করে বাজারজাত করতে চায় না নাইকি। তাঁর ব্যক্তিত্বের দুই বিপরীত দিককে সামনে এনে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাঠের বাইরে শান্ত, কিছুটা লাজুক ও নির্লিপ্ত স্বভাবের কারণে ওলিসেকে অনেকে ‘মিস্টার ননশ্যালান্ট’ বলে ডাকেন। কিন্তু মাঠে তাঁর খেলার ধরন একেবারেই আলাদা। আক্রমণে ধার, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার ক্ষমতা তাঁকে করে তুলেছে বায়ার্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এই বৈপরীত্যই নাইকির সম্ভাব্য প্রচারণার মূল আকর্ষণ।
গত সপ্তাহে খবর প্রকাশিত হয়, নাইকির সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছেন ওলিসে। তবে এখনো কোনো পক্ষ চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। চুক্তির বিস্তারিতও প্রকাশ হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই চুক্তি থেকে কয়েক মিলিয়ন ইউরো আয় করতে পারেন ফরাসি এই তারকা।
নাইকির আগ্রহের পেছনে ওলিসের খেলার পাশাপাশি তাঁর বুট বেছে নেওয়ার অভ্যাসও গুরুত্ব পেয়েছে। এত দিন কোনো বড় ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তিগত চুক্তি করেননি তিনি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পছন্দমতো বুট পরার স্বাধীনতা ধরে রেখেছিলেন।
ওলিসের বিশেষ পছন্দ ছিল নাইকির হাইপারভেনম ফ্যান্টম থ্রি বুট। ২০১৯ সালে এই মডেলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলেও সেটি পরা ছাড়েননি তিনি। অনলাইনে পুরোনো বুটের জোড়া খুঁজে বের করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করতেন। পরে শিল্পীরা তাঁর জন্য সেগুলো কাস্টমাইজ করে দিতেন।
এই জায়গাতেই নাইকির জন্য তৈরি হয়েছে বিপণনের বিশেষ সুযোগ। ফুটিহেডলাইন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বাজারে ফিরতে পারে নাইকির জনপ্রিয় হাইপারভেনম সিরিজ। অন্যদিকে, বন্ধ হয়ে যাবে ফ্যান্টম সিরিজের উৎপাদন। পুরোনো বুটের প্রতি ওলিসের টান এবং নতুন করে হাইপারভেনমের প্রত্যাবর্তনকে এক সুতোয় গেঁথে প্রচারণা চালাতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরোতে ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন ওলিসে। এরপর থেকে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর সৃজনশীলতা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ তৈরির দক্ষতা তাঁকে বায়ার্নের অন্যতম আকর্ষণীয় খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়েও নজর কেড়েছেন এই তারকা। তাঁর পারফরম্যান্সের সুবাদে এবার ব্যালন ডি’অরের ৩০ জন প্রার্থীর তালিকায়ও জায়গা পেয়েছেন তিনি।